Image default
বাংলাদেশ

৪ দিন ধরে দেখা নেই সূর্যের, কম্বলের জন্য হাহাকার

‘চার দিন থাকি রইদ (রোদ) নাই। ঠান্ডার মধ্যে কামাইয়ো করবার পাই না। কষ্টে আছি। হামরা নদী এলাকার মানুষ। হামার কাইয়ো খোঁজও নেয় না। এতি কাইয়ো কম্বল-টম্বল ধরিও আইসে না। এই ঠান্ডাত কম্বল পাইলে ভালো হইল হয়।’ কনকনে ঠান্ডায় এভাবেই নিজেদের দুর্ভোগের কথা বলছিলেন কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙা ইউনিয়নের ধরলা নদী অববাহিকার চর মাধবরাম পশ্চিমচর গ্রামের শ্রমজীবী নারী হাসনা বেগম।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে হাসনা বেগমের গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদী তীরবর্তী গ্রামটিতে শহরাঞ্চলের তুলনায় বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। হাসনা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ির আঙিনায় আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন। মৃদু বাতাসে আগুনের ধোঁয়া সদস্যদের চোখে লাগছিল। কিন্তু সেই কষ্ট সহ্য করে ঠান্ডায় কাবু মানুষগুলো আগুনের পরশ ছেড়ে উঠছেন না।

শুধু হাসনা বেগমের চর মাধবরাম পশ্চিমচর গ্রাম নয়, গত কয়েকদিন ধরে গোটা জেলাজুড়ে শীতের প্রকোপ বাড়ায় নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন লাখো মানুষ। মানুষের সঙ্গে কষ্ট বেড়েছে গবাদিপশুরও। গত চার দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় এবং ৭-৮ কিলোমিটার বেগে হিমেল হাওয়ার প্রবাহ অব্যাহত থাকায় কষ্টের মাত্রা বহুগুণে বেড়েছে।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, শুক্রবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন চলতে পারে।

দুই তিন দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে জানিয়ে সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘বৃষ্টির পর ঠান্ডার মাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তখন আকাশে থাকা মেঘও কেটে গিয়ে রোদের দেখা মিলবে।’  

এদিকে মানুষের কষ্ট লাগবের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে সেসব কম্বল প্রান্তিক মানুষজনের কাছে কতটা পৌঁছাচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় প্রকাশ করেছেন সুবিধা প্রত্যাশীরা।

শ্রমজীবী নারী হাসনা বেগমসহ চর মাধবরাম গ্রামের একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, নদী তীরবর্তী প্রান্তিক এলাকা হওয়ায় তাদের কাছে এসব কম্বল পৌঁছায় না। কেউ তাদের জন্য শীতবস্ত্র নিয়ে এলাকায় যান না। ফলে তারা এই হাড়কাঁপা ঠান্ডাতেও কষ্ট করে জীবন যাপন করছেন। তাদের শীতবস্ত্র প্রয়োজন। পাওয়া গেলে তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

চর মাধবরাম পশ্চিমচর গ্রামের আরেক বাসিন্দা দিনমজুর হুজুর আলী এমনটাই জানলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এইদিকে খুব শীত। সেই রকম ঠান্ডা। গরম কাপড়চোপড় নাই। ঠান্ডার জন্য কাজ কামায় কিছু করবার পারতেছি না। আমরা খুব কষ্টে আছি। কাপড়চোপড় পাওয়া গেলে কিছু ঠান্ডা নিবারণ করা গেইলো হয়। কিন্তু আমাদের এইদিক কেউ কম্বল নিয়া আইসে না। সরকারি সাহায্যও পাই না।’

হাসনা বেগম ও হুজুর আলীর দাবির সত্যতা মেলে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানের তথ্যে। চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওই গ্রামে শুধু নয়, ইউনিয়নের অনেক হতদরিদ্র  শীতার্ত মানুষ কম্বল পায়নি। আমার এলাকায় অন্তত আড়াই হাজার শীতবস্ত্র প্রয়োজন। কিন্তু সরকারিভাবে পেয়েছি মাত্র সাড়ে তিনশ। তারা কম্বল পাবেন না এটাই স্বাভাবিক।’

জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা জানায়, চলমান শীতে প্রায় ৬৩ হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা বিতরণ চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও শীতার্ত মানুষের গৃহসংস্কারের জন্য টিন এবং খাদ্য সহায়তার জন্য শুকনো খাবার রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো বিতরণ করা হবে।

প্রান্তিক এলাকার মানুষের কাছে শীতবস্ত্র না পৌঁছানোর খবরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ‘আমরা গ্রামের শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র পৌঁছানো নিশ্চিত করছি। চর মাধবরামসহ যে এলাকায় এখনও শীতবস্ত্র পৌঁছায়নি সেখানে দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এ ছাড়াও শীতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা বিতরণসহ মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

Source link

Related posts

ভাসানচরে গেলো আরও ১৫৩৫ রোহিঙ্গা

News Desk

‘সংক্রমণ ও মৃত্যু কোনোটিই স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আসেনি’

News Desk

মাগুরায় মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় কিশোরের আত্মহত্যা

News Desk

Leave a Comment