free hit counter
বাংলাদেশ

৩৫ মণের ‘রাজাবাবুর’ দাম ১২ লাখ

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। এরইমধ্যে নানা আকৃতির বড় গরুগুলোর বাহারি নাম নজর কেড়েছে সবার। নজর কাড়া গরুগুলোর মধ্যে একটি রাজবাড়ীর ‘রাজাবাবু’। সাদা-কালো রঙের ৩৫ মণ ওজনের ষাঁড়টির দাম ১২ লাখ টাকা চাচ্ছেন মালিক।

কোরবানি উপলক্ষে বিক্রির জন্য ষাঁড়টি প্রস্তুত করেছেন গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর মৃধাডাঙ্গা গ্রামের খামারি ফজলু মণ্ডল। গড়ে প্রতিদিন ১৫০০ টাকার খাবার লাগে ‘রাজাবাবুর’।

খামারি ফজলু মণ্ডল বলেন, ‘হলস্ট্যান ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টি ২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে রাজবাড়ীর সোনাপুর এলাকা থেকে কিনেছি। ষাঁড়ের গায়ের রঙ সাদা-কালোর মিশ্রণ হওয়ায় আদর করে নাম রেখেছি রাজাবাবু। সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার ষাঁড়টি লম্বায় প্রায় ১১ ফুট। ৩৫ মণ অর্থাৎ এক হাজার ৪০০ কেজি ওজনের ষাঁড়টিকে শুরু থেকেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পরামর্শে দেশি খাবার খাওয়াচ্ছি। গম, ডাবরি, ভুসি, গমের ভুসি, পালিশ ভুসি, ছোলা, ছোলার ভুসি, ভাত ও খৈলসহ প্রতিদিন ১৫০০ টাকার দানাদার খাবার লাগে তার। সন্তানের মতো লালন-পালন করে এবার কোরবানিতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। দাম চাচ্ছি ১২ লাখ টাকা।’ 

তিনি বলেন, ‘আকর্ষণীয় নাম আর আকারে বড় হওয়ায় ষাঁড়টিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষ খামারে ভিড় জমাচ্ছেন। ষাঁড়টির খাবারের পেছনে প্রতিদিন যে টাকা খরচ হয়েছে, তাতে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারলে কিছুটা লাভ হবে। এরইমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী ষাঁড়টি কেনার জন্য যোগাযোগ করেছেন। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম বলেননি কেউ।’

ষাঁড়টির দেখভালের দায়িত্বে থাকা জিন্নাত হোসেন বলেন, ‘রাজাবাবু খুবই শান্ত প্রকৃতির। চার বছর ধরে তার দেখাশোনা করছি। মালিক এবার বিক্রি করবেন। ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে আমারও পরিশ্রম সার্থক হবে।’

ষাঁড়টি দেখতে আসা সামাদ শেখ বলেন, ‘ষাঁড়টি চার বছর ধরে ফজলু মণ্ডল লালন-পালন করছেন। গরুটি ভালো দামে বিক্রি হোক।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলায় দুই হাজার ২৩টি গরু, এক হাজার ৩২৫টি ছাগল এবং ৯৩টি ভেড়াসহ তিন হাজার ৪৪১টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে।

প্রতিদিন ১৫০০ টাকার খাবার লাগে ‘রাজাবাবুর’

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্বতী পাল বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার উপজেলায় তিন হাজার ৪৪১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে ফজলু মণ্ডলের ৩৫ মণ ওজনের গরুটি সবচেয়ে বড়। ফজলু মণ্ডল শুরু থেকেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সহযোগিতা ও পরামর্শে দেশি খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। আশা করছি গরুটি বিক্রি করে লাভবান হবেন ফজলু মণ্ডল।’

তিনি বলেন, ‘ক্রেতার সংকটে যদি তিনি গরুটি বিক্রি করতে না পারেন তাহলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অনলাইনে পশু বেচাকেনার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বললে গরুটিকে বিক্রির ব্যবস্থা করবো আমরা।’

 

Source link