free hit counter
বাংলাদেশ

২ ভাইয়ের লাশ উদ্ধার: স্বাভাবিক মৃত্যু বলছে পরিবার

টাঙ্গাইলে ডোবা থেকে দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়েছে। দিন-দুপুরে পাহাড়ি অঞ্চলের নির্জন এলাকায় তাদের মৃত্যুকে পরিবার স্বাভাবিকভাবেই দেখছে। তবে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করায় এলাকায় ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না। হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রাখা হতে পারে বলে সন্দেহ অনেকের।

গত মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের গারোরচালা গ্রামের একটি ডোবা থেকে তাদের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন- উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের গারোরচালা গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে কৃষক শাহজাহান আলী (৬৫) ও নুরুল ইসলাম (৫৫)। এ ঘটনায় তাদের স্ত্রী দুই বোন বিধবা হলেন।

স্থানীয়রা জানান, কৃষক শাহজাহান আলী ও নুরুল ইসলাম ওই দিন সকালের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বনের পাশে ক্ষেতের জমিতে কাজ করতে যান। দুপুর হলেও তারা দুই ভাই বাড়িতে ফিরে না আসায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। একপর্যায় বিকেলের দিকে নির্জন বনের পাশে ডোবায় ভাসমান অবস্থায় দুই ভাইয়ের লাশ পাওয়া যায়। দুই ভাইয়ের একত্রে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ না থাকলেও ঘটনাটিকে সন্দেহের চোখেই দেখছেন স্থানীয়রা।

মৃত শাহজাহান আলীর স্ত্রী জায়েদা বেগম বলেন, ‘সকালের খাবার খেয়ে তারা দুই ভাইয়ে মিলে ক্ষেতের আইল ছাঁটতে যায়। এরপর বেলা ১১টার দিকে তাদের সেখানে ডাকতে গিয়ে পাওয়া যায় না। আবার দুপুরের দিকে গিয়ে সেখানে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করি। একপর্যায়ে ওই জমির এক সাইডে ডোবায় প্রথমে আমার স্বামীর লাশ পাওয়া যায়। এরপর সেখান থেকে দেবর নুরুল ইসলামের লাশও উদ্ধার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পানিতে ডুবে তাদের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সাঁতার জানতো না। তাদের কোনও শত্রু নেই। এটা হত্যা না। এ ঘটনায় আমাদের কোনও অভিযোগ নেই। ওই দিন পুলিশের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতে লাশ দাফন করা হয়।’

স্থানীয় অনেকের ধারণা, তারা দুই ভাই অনেক জমির মালিক। এই জমির লোভেও কেউ তাদের হত্যা করে ডোবায় ফেলে রাখতে পারে।

শাহজাহান আলীর বড় মেয়ের জামাই শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘আমার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে। তাদের সবারই বিয়ে হয়ে গেছে। চাচা শ্বশুরের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেটি ছোট আর মেয়েটির বিয়ে হয়েছে। তাদের দুজনের প্রায় ৪০ পাকি জমি রয়েছে। তাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।’

জুলহাস নামের এক আত্মীয় বলেন, ‘হয়তো প্রথমে এক ভাই পানিতে ডুবে যায়। তখন আরেক ভাই তাকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও ডুবে যান। এভাবেই হয়তো তাদের মৃত্যু হয়েছে।’

উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, তারা সাঁতার না জানার কারণেই মৃত্যু হয়েছে।’

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমে এক ভাই পানিতে ডুবে যায়। এ সময় আরেক ভাই তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও ডুবে যান। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

Source link