free hit counter
বাংলাদেশ

হিলি-বেনোপোলে ভিড়, ইমিগ্রেশনে হয়রানির অভিযোগ

ঈদে লম্বা ছুটি পাওয়ায় ভারতে যেতে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে দিনাজপুরের হিলি ও যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে। কেউ যাচ্ছেন ভারতে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে। আবার কেউ ভারতের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে ও চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়ছেন। অন্যদিকে অনেকে বাংলাদেশে আসছেন আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে। তবে যাওয়ার সংখ্যার তুলনায় আসার সংখ্যা খুবই কম। তবে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চেকপোস্টের দায়িত্বশীলরা অনৈতিক সুবিধা নিতে লম্বা লাইনের সৃষ্টি করে হয়রানি করছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।  

হিলি দিয়ে ভারতে যাচ্ছেন আব্দুস সালাম।  বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, এবার ঈদে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে বেশ লম্বা ছুটি পেয়েছি। আগে নানা কারণে ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। তবে এবারের ছুটিতে সবার সঙ্গে দেখা করতে ভারত যাচ্ছি।  

অপর পাসপোর্টধারী যাত্রী ইমন হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোরবানির ঈদে বেশ কয়েকদিনের ছুটি পেয়েছি। আমরা স্বপরিবারে ভারতে বেড়াতে যাচ্ছি। ঈদের সময়টা ভারতের কোলকাতা, দার্জিলিংসহ দর্শনীয় বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।  

ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার বাড়ি ভারতে, কিন্তু শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশে। প্রতিবছর ভারতে ঈদ উদযাপন করি। কিন্তু করোনার কারণে ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকায় আমরা বাংলাদেশে আসতে পারিনি। তাই এবারে পরিবার নিয়ে ঈদ করতে বাংলাদেশে এসেছি।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত তিন দিন ধরেই হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা বেড়েছে। এই পথ দিয়ে গড়ে প্রতিদিন তিন থেকে চারশ’ পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেন। তবে ঈদ উপলক্ষে এই সংখ্যা দ্বিগুণের মতো বেড়েছে। 

এদিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী দুই দেশের মধ্যে চলাচল করে থাকেন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশি যাত্রীদের ভারতে যাওয়া ব্যাপকহারে বেড়েছে। এখন ছয় হাজার থেকে সাত হাজারের চেয়েও বেশি যাত্রী প্রতিদিন বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাচ্ছেন। তবে যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, বেনাপোল দিয়ে ভারতে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভ্রমণেচ্ছুরা পেট্রাপোল, বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। 

যাত্রীরা জানান, একজন পাসপোর্টযাত্রীকে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পৌঁছাতে বাংলাদেশ অংশে সাত জায়গায় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। যাত্রীরা বেনাপোল ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করতে প্রথমে সোনালী ব্যাংক ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে আনসার গেটে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। ইমিগ্রেশনের কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় প্রতিদিন টার্মিনালের সামনে ফাঁকা রাস্তার ওপর এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। গতকাল প্রায় পাঁচশ’ যাত্রী ভারতেও ঢুকতে না পেরে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের বারান্দায় নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। সারারাত জেগে এদের অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ছেন চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া যাত্রীরা।

হয়রানি আর অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা চিকিৎসা শেষে ভারত থেকে ফিরে আসা নিখিল চন্দ্র বলেন, বেনাপোল ও পেট্রাপোলে যে হয়রানির শিকার হয়েছি তা বলে শেষ করা যাবে না। আনসার গেট থেকে শুরু করে ইমিগ্রেশন পর্যন্ত কয়েক জায়গায় টাকা দিতে হয়েছে। চিকিৎসা করতে মাঝে মাঝে ভারতে যাই। তবে এখনকার মতো  হয়রানির শিকার আগে কখনও হতে হয়নি।

যাত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, যাত্রীপ্রতি ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা দিলে একই গেট দিয়ে প্রবেশ করতে এক মিনিট সময় লাগছে না। আর এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে কর্তব্যরত বন্দরের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও আনসার সদস্যরা। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অন্য একটি লাইন তৈরি করে ইমিগ্রেশনে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। যারা টাকা দিচ্ছেন না তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। ইমিগ্রেশনে প্রবেশের পর সেখানে শুরু হয় আরেক লাইন। সেখানে যাত্রীদের পাসপোর্টে দ্রুত সিল মারাসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নিযুক্ত দুই থেকে তিন জন বহিরাগত দালাল। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পাসপোর্টে নানা ভুল দেখিয়ে যাত্রীদের দাঁড় করিয়ে রাখেন। পরে ওই দালালরা যাত্রীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে কর্মকর্তাদের সংকেত দিলেই পাসপোর্টে ইমিগ্রেশনের সিল মারা হয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে দালালরা এ ধরনের হয়রানিমূলক কাজ করে গেলেও কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকা পালন করে। 

 ঢাকা-কোলকাতার মধ্যে চালাচলকারী এক বাস সার্ভিসের ম্যানেজার বাবলুর রহমান বলেন, আমাদের পরিবহন ব্যবসা সেবামূলক কাজ। কিন্তু সেই সেবাটা এখন আমরা করতে পারছি না। আগে যাত্রীরা বেনাপোল ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করার সময় আমাদের প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত থেকে ইমিগ্রেশনের কাজে সহযোগিতা করতেন। তখন ইমিগ্রেশনের যাত্রীরা কোনও হয়রানির শিকার হতেন না। বর্তমানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনও প্রতিনিধিকে ইমিগ্রেশনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় ভারত ভ্রমণের যাত্রীরা আনসার থেকে শুরু করে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

তবে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতগামীদের সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য সময়ের চেয়ে এখন প্রায় তিনগুণ যাত্রী ভারতে যাচ্ছেন। তবে যাত্রীরা যেসব অভিযোগ করছেন তা সঠিক নয়। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বেনাপোল ইমিগ্রেশনে জনবল বাড়ানো হয়েছে এবং রোগীদের জন্য অতিরিক্ত চারটি ডেস্ক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

Source link