free hit counter
বাংলাদেশ

হবিগঞ্জের দুই উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ শতাধিক পরিবার

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলার ছয় শতাধিক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে শুকনো খাবার ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

জানা গেছে, কুশিয়ারা, খোয়াই, কালনী ও বিবিয়ানা নদীর পানি বেড়েছে। এর ফলে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, করগাঁও ইউনিয়নের শেরপুর, পাঞ্জারাই, গুমগুমিয়া গ্রামের নিম্নাঞ্চল, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও এবং বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসহ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকা ও দুটি ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের আশ্রয়ের জন্য নবীগঞ্জে ১৩টি, লাখাইয়ে ১৫টি এবং আজমিরীগঞ্জে ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও দুই হাজারেরও বেশি মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। 

হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় খোয়াই নদীর লুকড়া ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। রবিবার (১৯ জুন) সকাল পর্যন্ত নতুন নতুন বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় সকাল ১০টার পর থেকে পানি বাড়েনি। বন্যা ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ। দিশেহারা অসহায় মানুষজন গবাদিপশু ও শিশু সন্তান নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বানভাসী মানুষদের।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গত মানুষদের সহায়তায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, ওষুধ, মোমবাতি, দেশলাই মজুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক সবগুলো উপজেলায় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ডুবে গেছে বাড়িঘর

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মহি উদ্দিন জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। ইতোমধ্যে প্রায় ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে তিন শতাধিক পরিবার অবস্থান নিয়েছে। তাদের জন্য শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা সালেহা সুমী জানান, উপজেলার ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩০০ পরিবার অবস্থান করছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেন।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিনহাজ আহমেদ শোভন বলেন, ‘টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুশিয়ারা, কালনী, খোয়াই ও বিবিয়ানা নদী পানির ভোর পর্যন্ত বাড়ছিল। তবে সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি বাড়েনি।’

Source link