Image default
বাংলাদেশ

স্যালাইন সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা

খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন দেড় শতাধিক রোগী। আর এই রোগীদের চিকিৎসার উপকরণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে স্যালাইন। কিন্তু এই স্যালাইনের সংকট চলছে খুলনার সরকারি হাসপাতালগুলোতে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে সর্বাধিক ১৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী থাকলেও স্যালাইন ছিল না। বেশির ভাগ ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। সংকটের কারণে বাইরের দোকানে স্যালাইন ও ওষুধ বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ দামে। দিন দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মোট শয্যা সংখ্যা ৫শ’। ১০ সেপ্টেম্বর সেখানে শুধু ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ১৬১ জন। মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬শ’ ৮৭ জন। যা ধারণক্ষমতার তিনগুণেরও বেশি। এ ছাড়া একইদিন খুলনা সদর হাসপাতালে ৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। জেলার তিনটি বড় বেসরকারি হাসপাতালে আরও ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন।

খুমেক হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা জানান, বেশির ভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় সব থেকে বেশি ব্যবহৃত উপকরণ স্যালাইন হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে না। খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড ২০ শয্যার। আর প্রতিটি ওয়ার্ডে দুটি করে আরও ২০টি বেড রয়েছে। সব মিলিয়ে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় বেড রয়েছে ৪০টি। কিন্তু এ হাসপাতালে এখন ভর্তি রোগী প্রায় দেড়শ জন।

খুমেক হাসপাতালের স্টোরের তথ্যে জানা গেছে, গত ১৫ জুন ৫শ’ এমএলের ১৫শ’ স্যালাইন আসে ইডিসিএল থেকে। এ স্যালাইন শেষ হওয়ার পর শনিবার হাসপাতালের সংকটের কথা উল্লেখ করে ইডিসিএলে চিঠি লিখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি তিন হাজার স্যালাইন এসেছিল। এ ছাড়া গ্লুকোজ স্যালাইনের সংকটের পর এক হাজার ৮শ’ স্যালাইন এসেছে। বর্তমানে ১০ দিনের মজুত আছে।

খুলনায় বিভিন্ন ফার্মেসিতে নরমাল স্যালাইন (ডিএনএস) পাওয়া যায়নি। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনেসহ বেশ কয়েকটি ফার্মেসির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্যালাইন সংকট রয়েছে বাজারে।

রোগীরা অভিযোগ করেছেন, ৮০ টাকার স্যালাইন ৩শ’ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। রোগী নুসরাত জাহান জানান, ৬ দিন ধরে খুমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সকাল-বিকাল চিকিৎসক এসে খোঁজ নিলেও নাপা আর গ্যাসের ওষুধ ছাড়া বাকি সব ওষুধ কিনতে হয়েছে। আর বাইরে দ্বিগুণ ও তিনগুণ দাম।’ সোবাহান মিয়া ও সালমা আকতার নামে দুজন জানান, তারা বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে গিয়ে অর্থ সংকটে পড়েছেন।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখা গেছে, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডের বাইরে বিভিন্ন ওয়ার্ডের একটা বড় অংশ জুড়ে ডেঙ্গু রোগী মশারি ছাড়াই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে এসব ওয়ার্ড থেকে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজার শরিফুর রহমান জানান, হাসপাতালের স্যালাইন শেষ হওয়ার আগেই চাহিদা দেওয়া হয়। কিন্তু তা এখনও আসেনি। তবে এ স্যালাইন যেন দ্রুত হাসপাতালে আসে তা নিয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

স্টোর কিপার মানস মজুমদার বলেন, ‘হাসপাতালে কোনও নরমাল স্যালাইন সাপ্লাই নেই। যা ডেঙ্গু রোগীদের বেশি প্রয়োজন।’

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, ‘৫শ’ বেডের জন্য নির্ধারিত ওষুধ দিয়ে ১৭শ’ রোগীর চিকিৎসা করতে হয়। তাই সব সময় সবাই সমানভাবে ওষুধ পান না। আবার রোগী ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওষুধ পান না, সময় লাগে। হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি। ডেঙ্গু রোগীর চাপও বাড়ছে। সবাইকেই যথাযথ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি আমরা।’

এদিকে, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক মশা ‍নিধন প্রসঙ্গে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিনই প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালে লাইট ডিজেল এবং কালো তেল স্পে করে মশার লার্ভা নিধন করা হচ্ছে। বিকালে ফগার মেশিন দিয়ে বড় মশা নিধনের কাজ চলছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশকনিধন কাজ চলছে। বাড়ির আঙিনা, ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করতে নগরীতে মাইকিং করা হচ্ছে। মশক নিধনের পাশাপাশি কেসিসির ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিভিন্ন ওয়ার্ডে অভিযান চলছে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে জরিমানাও করা হয়েছে।

Source link

Related posts

প্রেমিকার ‘আপত্তিকর’ ছবি ছড়ানোর ঘটনায় শেকৃবি ছাত্রের ৫ বছরের জেল 

News Desk

এক্সপ্রেসওয়েতে কাভার্ডভ্যান চাপা দিলো ৪ প্রাইভেটকার

News Desk

আটক করা হয়েছে শীতলক্ষ্যায় লঞ্চকে ধাক্কা দেওয়া সেই কার্গো জাহাজটি

News Desk

Leave a Comment