Image default
বাংলাদেশ

সৈকতে জনসমুদ্র!

অর্ধ লাখের বেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (১২ এপ্রিল) অবসর কাটাতে সাগরের কাছে ছুটে যান বিনোদনপ্রত্যাশীরা। শিশু-কিশোর-প্রবীণ নানা বয়সী মানুষ দল বেধে ছুটে আসেন ঈদের আনন্দ সাগরের তীরে এসে আরও বাড়িয়ে নিতে। সৈকতের পাশাপাশি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ডসহ অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রের ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়।

শুক্রবার সকাল থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতেও প্রচুর লোক সমাগম দেখা গেছে। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ সমুদ্রের পানিতে গোসল করেছেন। আবার কেউ স্পিড-বোটে চড়ে সমুদ্রে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কেউ কেউ সমুদ্রের পাড়ে বসে গান গেয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন। বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত এ সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য পর্যটকদের কাছে যেন এক অন্যরকম মনোমুগ্ধকর ঘটনা।  

ঈদে ছুটিতে শুক্রবার বিকালে মো. গিয়াস উদ্দিন নামে এক চাকরিজীবী পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত অন্যরকম একটি বিনোদনের স্থান। যেখানে সাগরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য অপেক্ষমাণ সারি সারি জাহাজ এ সৈকতের পরিবেশকে ভিন্নতা এনে দিয়েছে। সাগরপাড়ে এলে মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। কর্মব্যস্ত জীবনে সুযোগ পেয়ে আজ পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে এসেছি।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. ইসরাফলি মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে এই সমুদ্র সৈকতে প্রচুর দর্শনার্থী এসেছে, যার সংখ্যা অর্ধ লাখের বেশি হবে। দর্শনার্থীরা যাতে কোনও ধরনের সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। এখানে ট্যুরিস্ট পুলিশ সবসময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কাজ করছে। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও ঈদের দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড, কর্ণফুলীর নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল, পতেঙ্গা প্রজাপতি পার্ক, কর্ণফুলী নদীর অভয় মিত্র ঘাট, কাজির দেউড়ি শিশু পার্ক, বহদ্দারহাট স্বাধীনতা পার্ক, আগ্রাবাদ কর্ণফুলী শিশু পার্ক, আগ্রাবাদ জাতি তাত্ত্বিক জাদুঘর, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ও হালিশহর সাগর পাড় ছিল লোকে লোকারণ্য।

নগরের পাশাপাশি জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সাগরপাড়, চন্দ্রনাথ পাহাড়, মীরসরাইয়ে মহামায়া লেক, আনোয়ারায় পারকি সমুদ্র সৈকত, রাউজানে মহামুনি মন্দির, অণিরুদ্ধ বড়ুয়া অনি শিশু পার্ক, বেতাগি কর্ণফুলী নদীর পাড়, রাউজান রাবার বাগান, ফটিকছড়ি চা বাগানেও ভিড় জমেছে দর্শনার্থীদের।

শুক্রবার সকাল থেকে ভিড় জমে চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানায়। যেখানে আছে দুর্লভ সাদা বাঘ, সিংহ, বানর, হনুমান, জেব্রা ও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণসহ অসংখ্য পশুপাখি। এখানে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে আসেন বয়স্করাও। চিড়িয়াখানার পশুপাখির পাশাপাশি পাহাড়ের মাঝখানে থাকা সিঁড়ি এবং শিশুদের রাইডগুলো বেশ উপভোগ্য।

চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ও ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, সকাল থেকে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদিনে ১৮ হাজার ২০০ জন দর্শনার্থী টিকিট নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।

কনকর্ড ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে আজ শুক্রবার দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় জমেছিল। ঈদকে ঘিরে ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ডকে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। দর্শনার্থীরা এসে যাতে আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে জন্য সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি আমাদের ছিল।

Source link

Related posts

পোতা দিয়ে প্রেমিকার আঘাতেই প্রাণ হারান রাফি

News Desk

ডেঙ্গুতে কাবু চট্টগ্রামের মানুষ, ৮ মাসে মৃত্যুর রেকর্ড

News Desk

দিনাজপুরে ৪ হাত, ৪ পা নিয়ে শিশুর জন্ম

News Desk

Leave a Comment