free hit counter
বাংলাদেশ

সেতু আছে, সড়ক নেই

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নে পড়ে আছে ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু। এই সেতুর সংযোগ সড়ক নেই। সংযোগ সড়ক না থাকায় চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। চলাচলের জন্য সেতুর সঙ্গে গাছ ও বাঁশ লাগিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজামেহার ইউনিয়নের উত্তরপাড়া বড়বাড়ি সড়কে দেড় মাস আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এতে দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছেন ১০ গ্রামের ২০ হাজারের বেশি মানুষ।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির অধীনে ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের এই সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ৩৮ লাখ টাকা। 

গত মার্চ মাসে সেতুর কাজ শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোসলেহ উদ্দিন খাঁন এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মোসলেহ উদ্দিন ও তার সহযোগী নাজমুল হাসান। কাজ শেষ করার কথা ছিল ওই মাসেই। কাজ শুরুর পর সেতুর নিচে বিকল্প রাস্তা না রেখে আগের সেতু ভেঙে ফেলায় ভোগান্তিতে পড়ে স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়দের দাবির মুখে ঠিকাদার সেতুর নিচে মাটি ভরাট করে সাময়িক চলাচলের জন্য রাস্তা করে দেন। এপ্রিল মাসে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। এর মধ্যে দেড় মাস অতিবাহিত হলেও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না করে কাজ সমাপ্ত করে চলে যান ঠিকাদার।

উত্তরপাড়ার বাসিন্দা হৃদয় মজুমদার বলেন, ‘সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না করে চলে গেছেন ঠিকাদার। এ অবস্থায় সেতুর এক মাথায় কিছু ইট অপর মাথায় পরিত্যক্ত বৈদ্যুতিক খুঁটি দিয়ে কোনও রকমে চলাচল করছে স্থানীয়রা। কয়েকদিন আগে স্কুল থেকে আসার সময় দুই ছাত্র খালের পানিতে পড়ে যায়। পরে উপস্থিত লোকজন তাদের উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবদুল মতিন সরকার বলেন, ‘ঠিকাদার কাজ শুরুর পর থেকে ফাঁকিবাজি করেছেন। তার গাফিলতিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয়রা। কয়েক দফায় সেতুর কাজ করেছেন। দেড় মাস আগে সেতুর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক করেননি। ঠিকাদারকে ফোন দিলে মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এ নিয়ে আমরা ক্ষুব্ধ। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক করার দাবি জানাই।’

রাজামেহার গ্রামের মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘কাজে না এলে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে সেতু নির্মাণের কী দরকার? এলাকার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। লোকজনের হাটবাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের কাজে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থায় সেতুর এক পাশে মাটি ফেলে অন্য পাশে বিদ্যুতের খুঁটি দিয়ে কোনও রকমে চলাচল করছে স্থানীয়রা।’

ঠিকাদার মোসলেহ উদ্দিন খাঁন বলেন, ‘সেতু নির্মাণে অনেক লোকসান হয়েছে আমার। মাটি সংকটের কারণে সংযোগ সড়ক করা হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করবো।’

জানতে চাইলে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‌‘মানুষের দুর্ভোগ দেখে ঠিকাদারকে বারবার বলে সেতুর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংযোগ সড়ক করে দেবেন বলে ঠিকাদার জানিয়েছেন।’

দেবিদ্বার উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার এক মাস পর সংযোগ সড়ক তৈরির কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা করা হয়নি। খালে পানি বেশি থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। আরও দু’একদিন সময় লাগবে।’

 

Source link