free hit counter
সুবর্ণ সুযোগ পোশাকখাতে বাংলাদেশের
বাংলাদেশ

সুবর্ণ সুযোগ পোশাকখাতে বাংলাদেশের

দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে তৈরি পোশাকখাত। করোনার শুরুতে বড় ধাক্কা খেলেও ফের ফিরতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা। রপ্তানিযোগ্য পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখন খানিকটা বিপাকে। যেমনটা বাংলাদেশ পড়েছিল করোনার শুরুর দিকে। তাই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের পোশাকশিল্প ঘুরে দাঁড়িয়ে আরও বড় বাজার দখল করতে পারবে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনা শনাক্তের পর খড়্গ নেমে আসে দেশের পোশাকশিল্পের ওপর। মুখ ফেরাতে থাকেন বায়াররা। বাতিল হতে থাকে কোটি কোটি টাকার অর্ডার। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, ঘটে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো ঘটনা। ঘোর বিপদে পড়েন কারখানা মালিকরা।

ক্রমে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। সরকারও মালিকদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। কিছু ক্রেতা অন্য দেশের কাছে চলে গেলেও ফিরতে থাকে অনেক রপ্তানি আদেশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের মান আবার ফিরিয়ে আনে ক্রেতাদের।

অন্যদিকে দেশের পোশাকখাতের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম গত বছর বাংলাদেশের করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। করোনা মোকাবিলায় সফলতা দেখিয়ে বাড়াতে থেকে রপ্তানি, পেতে থাকে নতুন নতুন রপ্তানি আদেশ। কিন্তু গত দেড় বছরে করোনা বদলে দিয়েছে বিশ্বের অনকে কিছু। এক সময় করোনা মোকাবিলায় সবচেয়ে সফল দেশগুলোর একটি ভিয়েতনাম, এখন সেই ভাইরাসটিতে ধুঁকছে। দেশটিতে প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যু ও নতুন রোগী শনাক্ত। বিধিনিষেধের কারণে দেশটি অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ভিয়েতনাম থেকে পণ্য নেওয়া বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ড খুঁজতে শুরু করেছে বিকল্প। ফলে বিশ্বের অন্যতম পোশাক ও জুতা উৎপাদনকারী দেশটি পড়েছে বেশ বিপাকে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২০ সালে আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি নেতিবাচক হওয়ায় অনেক অর্ডার বাতিল হয়। বায়ার বিকল্প খোঁজায় সে সুযোগ কাজে লাগায় ভিয়েতনাম। আমাদের পোশাকখাতের মূল প্রতিযোগী দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি। পাশাপাশি দেশটিতে এখন করোনা পরিস্থিতিও উদ্বেজনক। এ সুযোগে আমাদের শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বায়ারদের কাছে এটা তুলে ধরতে পারলে আরও অর্ডার আসবে বলে মনে করি।

গত ১২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাতে প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছে এবং এর বেশিরভাগই নারী। নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাত বিশেষ অবদান রাখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আমরা এ সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।

‘এজন্য উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য উন্নত মান, নতুন ডিজাইন, গ্রাহকের পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের ডাটা, প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হবে।’

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের পোশাকের মান, ডিজাইন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হলেও সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয় উদ্যোক্তাদের। কোনো বায়ার এলেই কারখানা মালিক যেকোনো মূল্যে পোশাক সরবরাহ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি করেন। পণ্যের মান ভালো হলেও সঠিক মূল্য না পাওয়ায় শ্রমিকরাও বাড়তি বেতন পাচ্ছেন না, নতুবা বন্ধ থাকছে তাদের ইনক্রিমেন্ট।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিয়েতনাম থেকে পণ্য নেওয়া বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ড যেহেতু বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে, তাই এবার পোশাক মালিকরাও বসেছেন নড়েচড়ে। তারা বলছেন, ভালো ও মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন হলেও দামের ক্ষেত্রে পিছিয়ে বাংলাদেশি পণ্য। সময় এসেছে এবার দরদাম করে কাজের অর্ডার নেওয়ার। মালিকপক্ষ যাতে আর নিজেদের মধ্যে দাম কমানোর প্রতিযোগিতা না করে।

সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বায়ারদের কাছে তা তুলে ধরতে পারলে আরও অর্ডার আসবে দেশে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, আমাদের দেশে এখন অনেক অর্ডার আছে। ভিয়েতনামে অর্ডার হওয়া কাজ তো আর আসবে না। তবে বায়ার এলে আমরা বাঁচাই করে অর্ডার নেবো। এ অপশন আমাদের তৈরি হয়েছে। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। যাতে আমরা নিজেদের মধ্যে পণ্যের দাম কমানোর প্রতিযোগিতা না করি।

বিকেএমইএর সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু কারখানা বন্ধ। উত্তর-মধ্যসহ অন্য কারখানায় এখনো উৎপাদন চলছে। বায়ার তো আর সবাই সরবে না, কিছু হয়তো মুভ করবে। সুযোগ এসেছে দরদাম করার। যেসব বায়ার আসবে তাদের কাছ থেকে দরদাম করেই অর্ডার নেবো। এখন ইউরোপ থেকে প্রচুর অর্ডার আসছে, আগামীতে আরও আসবে। এ সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

Related posts

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমুদ্রসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ

News Desk

আফগানিস্তানে বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বেড়ে ৬০

News Desk

স্বাভাবিক হলো সচিবালয়

News Desk
Bednet steunen 2023