free hit counter
বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জে স্রোতে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও সড়ক

উজানে ঢল ও ভারী বর্ষণে সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলা সদর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, তাহিরপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সুরমা নদী উপচে বন্যার পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও সড়ক। পানি বেড়ে জেলার আড়াই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। 

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিকাল থেকে পানি বেড়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে প্রবেশ করেছে বন্যার পানি। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নবীনগর, শান্তিবাগ নুতনপাড়া, উকিলপাড়া, বড়পাড়া, তেঘরিয়া, কালীপুর, হাছনবসত, সাব বাড়িরঘাট, জেলরোডসহ অন্তত ২০টি আবাসিক এলাকা। এসব এলাকার রাস্তাঘাট হাঁটু পানি থেকে শুরু করে কোমর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। 

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি চলাচলের সড়ক দিয়ে পাহাড়ি ঢল প্রবল বেগে বয়ে যাচ্ছে। লোকজন যানবাহনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। চলাচলের প্রধান সড়কগুলো সবই পানিতে ডুবে যাওয়ায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে ছোট ছোট নৌকায় চড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 


ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের সুফিনগর গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, ২০০৪ সালের বন্যার পর এবার এত বেশি পানি হয়েছে। চারদিকে পানিবন্দি মানুষ অনেক কষ্টে আছেন। 

মিত্রগাঁও গ্রামের রফু মিয়া বলেন, গেল সাত দিন ধরে ছাতকের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ঘর থেকে বের হলেই পানি। রাস্তাঘাট সব পানিতে ভেসে যাচ্ছে।

হাসনাবাদ গ্রামের মনর আলী বলেন, পানি যাওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। সকালে কমলে বিকালে বাড়ে। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে মানুষ আরও বেশি বিপদে পড়েছেন।   দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দীপক দাস বলেন, গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। মানুষ হাস-মুরগি, গবাদিপশু নিয়ে বিপদে আছেন। 

জালালপুর গ্রামের ইন্তাজ আলী বলেন, গোয়ালঘরে পানি ওঠে যাওয়ায় গরু উঁচু সড়কে নিয়ে রেখেছি।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান বলেন, বন্যার কারণে দোয়ারাবাজারে দুটি, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরে একটি সেতু ভেঙে গেছে। আরও ১০টি কালভার্ট-সেতু নাজুক অবস্থায় রয়েছে। 

 ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, ছাতকের পানি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টিপাত পানি কমতে দিচ্ছে না। 

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাংশু কুমার সিংহ জানান, উপজেলার সব ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানি কমার কোনও লক্ষণ নেই। উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণ না কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে জানান তিনি। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীর পানি কিছুটা কমলেও হাওর এবং নিম্নাঞ্চলে পানি বেড়ে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলা সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া সুরমার তীর উপচে হু হু করে পানি ঢুকছে হাওর ও লোকালয়ে। তলিয়ে যাচ্ছে ঘববাড়ি ফসলি জমি। প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। 

 এদিকে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামে জমি থেকে চিনাবাদাম তোলার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। উপজেলার সড়কগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, শুকনা খাবার নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বন্যার্তদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় সাড়ে ছয় লাখ নগদ টাকা ২০ মেট্রিকটন চাল দুই হাজার বস্তা শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

Source link