free hit counter
বাংলাদেশ

সিলেট-সুনামগঞ্জের পানি ঢুকছে হবিগঞ্জে

হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উজান-ভাটি দুই দিকের পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় সাতটি উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। মানবেতর জীবনযাপন করছে বানভাসি মানুষ।

জানা গেছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যার পানি কুশিয়ারা, কালনী ও বিবিয়ানা দিয়ে হবিগঞ্জ সদর, লাখাই নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচংয়ে নামছে। ভাটি অঞ্চলের হাওরগুলোতে পানি বেড়ে উজানের দিকে বইছে। ফলে উজান-ভাটি দুই দিক থেকেই হবিগঞ্জের এসব এলাকায় পানি ঢুকছে।

বৃষ্টি ও ঢলে নদ-নদী ও হাওরে পানি বেড়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, নবীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন, ৪০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ৩০টি গ্রামের সাড়ে সাত হাজার গ্রাহকের বিদুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার, বানিয়াচং উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়ছে। বানিয়াচং উপজেলার সাথে পার্শ্ববর্তী আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সড়ক, বানিয়াচং ভায়া নবীগঞ্জ-সিলেট সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

লাখাই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বাড়িঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয়রা মালামাল নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন। বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। কবলিতদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন। মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব গ্রামের আঞ্চলিক সড়ক ও কাঁচা রাস্তা ডুবে গেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, বাহুবল, মাধবপুর ও সদর উপজেলার প্রায় ৫১টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ টাকা ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার। এছাড়া পানিবন্দি মানুষের জন্য ২২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৩০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করে তা সক্রিয়ভাবে চালু রাখা হয়েছে। আরও ৫০০ মেট্রিক টনেরও বেশি চাল মজুত রয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মহি উদ্দিন বলেন, ‘বন্যার্ত মানুষের পাশে আমরা সবসময় আছি। খাদ্য সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে, নতুন করে চাল-শুকনো খাবার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্যালাইন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সবাইকে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।’

মালামাল নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন বানভাসি মানুষ

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিনহাজ আহমেদ শোভন বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে হাওরের মাঝে মহাসড়ক করা হয়েছে। এর ফলে ভাটি অঞ্চলের হাওরগুলোর পানি নামতে পারছে না।এতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীরও পানিও বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উজান-ভাটি দুই দিক দিয়ে হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাইয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। হাওরের পানি নামতে সময় লাগবে। হাওরের পানি নেমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, ‘হাওর, নদী ও খাল পলিমাটিতে ভরে যাওয়ায় পানি নামছে না। ফলে উজান-ভাটি দুই দিক দিয়ে পানি ঢুকছে। পানি নামার জন্য ভাটি অঞ্চলের খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে কাজ চলছে। ধীরে ধীরে পানি নেমে যাবে।

Source link