free hit counter
বাংলাদেশ

সারা দিনই মুখর ছিল চট্টগ্রামের সব বিনোদন কেন্দ্র

চট্টগ্রামে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের দিনে দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠেছে পার্ক, চিড়িয়াখানাসহ সব বিনোদন কেন্দ্র। মঙ্গলবার (৩ মে) সকাল থেকে  বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নারী-শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষ ভিড় করেছেন।

ঈদের সকালে চট্টগ্রামের আকাশ রৌদ্রজ্জ্বল থাকলেও দুপুরে ধমকা হাওয়াসহ নামে বৃষ্টি। এ কারণে ঈদের আনন্দ কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। কিছু কিছু সড়কে পানি জমেছে। ব্যাঘাত হয়েছে যাতায়াতে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সকালে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করলেও বৃষ্টির কারণে কিছুটা কমে যায়। দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ধমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হয়। তবে বৃষ্টির পর আবারও ভিড় বাড়ে।

বিকাল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের পাশাপাশি এখানে সব বয়সী মানুষের ভিড় জমেছে। খাঁচায় বন্দি বাঘ, সিংহ, হরিণ, জেব্রাসহ নানা প্রজাতির পশুপাখি দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। প্রিয়জনদের সঙ্গে তুলছেন ছবিও। ঈদকে ঘিরে নানা রঙে সাজানো হয়েছে চিড়িয়াখানা।

চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ও ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে অনেক পর্যটক এসেছিল। বৃষ্টির কারণে দুপুরে কমেছে। বৃষ্টি থামার পর আবারও অনেক পর্যটক চিড়িয়াখানায় আসে। ঈদকে ঘিরে চিড়িয়াখানাকে সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া চিড়িয়াখানার নতুন সংযোজন সিঁড়ি আগত পর্যটকদের পশুপাখি দেখার পাশাপাশি বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে। এ ছাড়া এখানে শিশুদের জন্য আলাদা ফ্রি রাইডও রয়েছে। যার কারণে চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।’

এদিকে ঈদকে ঘিরে চিড়িয়াখানার পাশেই নগরের কনকর্ড ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড সেজেছে নতুন সাজে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। সকাল থেকে এখানে অনেক দর্শনার্থী এসেছেন।

কনকর্ড ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই বছর ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে পার্ক খোলা রাখতে পারিনি। সেজন্য অনেক রাইড নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ১৪টি রাইড সংস্কার করা হয়েছে। আমরা পার্ককে আরও আধুনিকায়ন করেছি। লেকে ভ্রমণের জন্য নতুন ইঞ্জিন বোট যুক্ত করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা রিসোর্ট-বাংলো সংস্কার করা হয়েছে।’

তিনি জানান, সকাল থেকে অনেক দর্শনার্থী এসেছে। বৃষ্টির কারণে দুপুরে দর্শনার্থী কমলেও বিকালে জমে উঠেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন বুধবার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকবে।

এদিকে সকাল থেকে দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। সকাল থেকে এখানে সব বয়সী মানুষের ভিড় জমেছে। সাগরের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি কেউ কেউ স্পিড বোটে সমুদ্রে বেড়াতেও দেখা গেছে।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. ইস্রাফিল মজুমদার জানান, স্বাভাবিক সময়েও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে অনেক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। ঈদের দিন হওয়ায় সকালে অনেক দর্শনার্থী আসে। দুপুরের দিকে কালবৈশাখীর কারণে দর্শনার্থী কিছুটা কমলেও পরে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে।

তিনি জানান, এখানে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থায় নেওয়া আছে।

এ ছাড়া নগরের শাহ আমানত বিমানবন্দর, কর্ণফুলী নদীর পাড় নেভাল, আনোয়ারা পার্ক সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা সারা দিন দর্শনার্থীদের আনাগোনায় মুখর ছিল।

Source link