free hit counter
বাংলাদেশ

সরকারি হাসপাতালের খাবার স্যালাইন ডাস্টবিনে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকশ খাবার স্যালাইন ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ইনচার্জ আয়শা মারজানকে শোকজ করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার (২৩ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ডাস্টবিনে এসব স্যালাইন ফেলে দেওয়া হয়। একই দিন বিকালে স্যালাইনগুলো ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর শহিদুল শাহিন বলেন, ‘এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আয়শা মারজানকে শোকজ করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নার্স ইনচার্জ আয়শা মারজান স্যালাইনগুলো বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখে ফেলেন স্থানীয়রা। তখন সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দেন। স্যালাইনগুলোর মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক রোগীর স্বজন ছকিনা বেগম বলেন, ‘সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় নার্স ইনচার্জ আয়শা মারজানকে ব্যাগে করে স্যালাইন নিয়ে যেতে দেখি। তখন বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানালে স্যালাইনগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দেন।’

দুমকি এলাকার বাসিন্দা মোসলেম মিয়া বলেন, ‘ডাস্টবিনে প্রায় হাজার খানেক স্যালাইন পড়ে থাকতে দেখে ১০০ স্যালাইন কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। স্যালাইনের মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্যাকেটের গায়ে লেখা রয়েছে।’

একই এলাকার বাসিন্দা মিশু মিয়া বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমানে দাঁড়িয়ে দেখলাম সবাই স্যালাইন কুড়িয়ে নিচ্ছেন। তাই আমিও ৫০ পিস নিয়েছি।’

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

এ বিষয়ে নার্স ইনচার্জ আয়শা মারজান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি জড়িত নই। ডাস্টবিনে কে স্যালাইন ফেলেছে জানি না। আমাকে ফাঁসাতে অন্য কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।’

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর শহিদুল শাহিন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এটি অসাবধানতাবশত হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লা ফেলার সময় হয়তো ভুলে কেউ স্যালাইনগুলো ফেলে দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন এস এম কবির হাসান বলেন, ‌‘এ বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Source link