free hit counter
বাংলাদেশ

সংবাদ প্রকাশের পর অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু

একরকম আয়োজন করে শেষ করা হচ্ছিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কৃষিজমিগুলো। উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে ৪৬টি বৈধ-অবৈধ ইটভাটা বসিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছিল এই উপজেলার কৃষিজমি। হুমকির মুখে পড়েছিল পুরো উপজেলার জনজীবন। বিষয়টি নিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে গত ১৮ মে ‘৪৬ ইটভাটায় শেষ এক উপজেলার কৃষিজমি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ওই সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। এরপর শুরু হয় ইটভাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান। প্রথমদিনে লাইসেন্স না থাকায় মিরাজ ব্রিক্স নামে একটি ইটভাটাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এর আগেও অভিযান হয়েছে। কিন্তু কেউ ইটভাটাগুলো পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেননি। আমি নতুন এসেছি কয়েকদিন আগে। আজ প্রথমদিন অভিযান পরিচালনা করেছি। একটি ইটভাটায় অভিযানের পরই বৃষ্টি নামে। তাই আর অভিযান করতে পারিনি। যেহেতু বিষয়টি ভয়াবহ আমরা এই অভিযান অব্যাহত রাখবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘জরিমানা করা ইটভাটাটির লাইসেন্স নবায়ন করা ছিল না। সতর্ক করেছি, এক মাসের মধ্যেই যেন নবায়ন করে। তা না হলে একমাস পর পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাকি সব ভাটায় আমরা অভিযান করবো। এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।’

জানা গেছে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বেশির ভাগ ভাটাই অবৈধ ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্মাণ ও পরিচালনা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মানুষের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, হাট-বাজার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে অনেক ভাটা। লাগাতার ফসলি জমির ওপর তৈরি হওয়া ভাটার কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদনও কমে আসছে দিন দিন। ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে বাড়ছে রোগ-বালাই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লার অন্য সব উপজেলার চেয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ইটভাটা বেশি। এসব ভাটার ধোঁয়ায় উপজেলার ঘোলপাশা, উজিরপুর, শ্রীপুর ইউনিয়নের পরিবেশ সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া কাশিনগর ইউনিয়নের প্রবেশপথে ও শ্রীপুর ইউনিয়নের নালঘর এলাকায় স্কুল, বসতবাড়ি ও কৃষিজমির মাঝখানেই নির্মাণ হয়েছে ভাটা। যে কারণে ওই এলাকার মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষকদের জমির ফসল হয়ে উঠেছে স্বপ্নের মতো অধরা।

Source link