free hit counter
বাংলাদেশ

শ্যামনগরে বাঁধ ধসে কয়েক গ্রাম প্লাবিত

বেড়িবাঁধ ভেঙে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি গ্রামসহ একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। খরস্রোতা খোলপেটুয়া নদীর দুর্গাবাটিতে ৪০ ফুটের বেশি ভাঙনে দুর্গাবাটি, আড়পাঙাশিয়া, পোড়াকাটলার মাছের ঘের, ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়িতেও ঢুকছে পানি।

এ ছাড়া জোয়ারের পানির চাপে সাতক্ষীরার কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন উপকূলের মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে সেখানকার প্রায় ২০০ ফুট জায়গাজুড়ে বাঁধ নদীতে ধসে পড়ে। রাতের জোয়ারে প্লাবিত হয় গ্রাম।

স্থানীয়দের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর বিভাগ শ্যামনগরের ৫নং ফোল্ডারের উক্ত অংশের বাঁধ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। শুক্রবার সকাল থেকে বাঁশ পাইলিং দিয়ে মাটি ফেলে রিং বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ভাঙন কবলিত অংশের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য নীলকান্ত রপ্তান জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে হঠাৎ বিকট শব্দে সাইক্লোন শেল্টারের পূর্বপ্রান্তের উপকূল রক্ষা বাঁধের ৬০/৭০ ফুট জায়গা খোলপেটুয়া নদীতে ধসে পড়ে। রাতে স্থানীয়রা আরও ভাঙন ঠেকাতে কাজ শুরু করে।

নিলুৎপল মন্ডল নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ভাঙনের খবর পেয়ে সকালে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। পরবর্তী জোয়ারের আগে ভাঙন কবলিত অংশে রিং বাঁধ দিতে না পারলে জোয়ারের পানি পশ্চিম ও পূর্ব দুর্গাবাটিসহ ভামিয়া, পোড়াকাটলা, চুনা ও হেঞ্চি গ্রামগুলোকে প্লাবিত করতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গাবাটির বিভিন্ন অংশে কোটি কোটি টাকার কাজ করা হলেও ভাঙন অংশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাটির কোনও কাজ করা হয়নি। এ ছাড়া প্রভাবশালীরা পাশের নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় চর দেবে গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কেউ তদারকি করেননি।

শ্যামনগরে বাঁধ ধসে কয়েক গ্রাম প্লাবিত

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম জানান, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি গ্রামসহ একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে। খরস্রোতা খোলপেটুয়া নদীর দুর্গাবাটিতে ৪০ ফুটের বেশি ভাঙনে দুর্গাবাটি, আড়পাঙাশিয়া, পোড়াকাটলার মাছের ঘের, ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকছে। এ ছাড়া বহু জায়গায় বাঁধ দেবে গেছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত করা না গেলে আসন্ন জোয়ারে আরও অন্যান্য ইউনিয়ন প্লাবিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তবে দুপুরের জোয়ারে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। জোয়ার নামতে নামতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। সন্ধ্যায় কাজ করা কঠিন হবে। খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন করায় চর দেবে যেয়ে পার্শ্ববর্তী অংশের বাঁধে ভাঙন লেগেছে।  

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে বাঁধ খাটাভাবে নদীতে ধসে পড়ে। রাতের জোয়ারে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি গ্রামসহ একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিক বালুর বস্তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Source link