free hit counter
বাংলাদেশ

যানবাহন উঠলেই কেঁপে ওঠে সেতু

যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে যশোরের বসুন্দিয়ায় ভৈরব নদের ওপর নির্মিত ভৈরব সেতু। সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে যশোর সদর ও বাঘারপাড়া উপজেলার। সেতু দিয়ে খুলনা থেকে নড়াইলের কালনামুখী যাত্রীবাহী বাস চলাচল ছাড়াও দুই উপজেলার হাজারো যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে প্রতিদিন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৩২ বছর আগে নির্মিত এই সেতুর বসুন্দিয়া প্রান্তে বছর সাতেক আগে ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে সেটি কোনোরকমে সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেতুটি যান চলাচলের অনুপযোগী। সেতুর দুই প্রান্তে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও ঝুঁকিই নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাত বছর ধরে বিভিন্ন দফতরে ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু পুনরায় নির্মাণে ধরনা দিলেও কোনও কাজ হয়নি। অবশ্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দফতর সূত্র জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পুনরায় নির্মাণে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দফতর সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালের ২৬ জুলাই যশোরের বসুন্দিয়া ও বাঘারপাড়া উপজেলার আলাদিপুরকে সংযুক্ত করে ভৈরব নদের ওপর নির্মিত হয় ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতর আমেরিকান অর্থ সহায়তায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (১৯৮৭-৮৯) আওতায় এটি নির্মিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রউফ বলেন, ‘খুলনা থেকে নড়াইলের কালনা পর্যন্ত বাস যশোর ঘুরে গেলে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার বেশি দূর হয়। সে কারণে এ রুট ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ট্রাক, মাইক্রোবাস ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন ২৪ ঘণ্টা সেতু পার হয়। বড় যানবাহন পার হওয়ার সময় সেতু ও দুই পাশের দোকানপাট কেঁপে ওঠে।’

আলাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বছর পাঁচেক আগে বসুন্দিয়া প্রান্তে সেতু ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই পাশে লাল নিশান উড়িয়ে সতর্ক সংকেত দেওয়া আছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর দুই পাড়ের হাজারো বাসিন্দা ছাড়াও দূর-দূরান্তের বহু যানবাহন নিয়মিত পার হচ্ছে। কখন ভেঙে পড়ে সবসময় এমন একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় আমাদের।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘যশোর সদর ও বাঘারপাড়া উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে এই সেতু। পদ্মা সেতু চালুর পর সেতুটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কেননা খুলনা থেকে নড়াইল হয়ে ভাঙ্গা-ফরিদপুরের ওপর দিয়ে যান চলাচল সহজ হয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন সেতুটি সংস্কার করা হয়।’

বসুন্দিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা এই সেতু পুনরায় নির্মাণের ব্যাপারে সাত বছর ধরে বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেছি। বেশ কয়েকবার কর্মকর্তারা এসেছেন, পরিদর্শন ও মাপ নিয়ে গেছেন। দিন বিশেক আগেও তারা এসে পানি, মাটি ইত্যাদি পরীক্ষা করেছেন। সেতুটি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় যান চলাচলও বেড়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করি; যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম আনিছুজ্জামান বলেন, ‘বসুন্দিয়ায় নির্মিত ভৈরব সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেতু দিয়ে প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বিধায় ভারী লোডের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানকার মাটি পরীক্ষা ও সেতুর ডিজাইন সম্পন্ন করা হয়েছে। নতুন ভাবে ৮১ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাত দশমিক তিন মিটার প্রস্থের সেতু নির্মাণ করা হবে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করবো আমরা।’

Source link