Image default
বাংলাদেশ

মাদারীপুরে বেনজীরের স্ত্রীর নামে ৯০ একর জমি

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় প্রায় ৯০ একর জমি রয়েছে সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মির্জার নামে। এসব জমির বেশির ভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মালিকানাধীন। আইজিপি থাকার সময় বেনজীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই জমি সস্তায় বিক্রি করতে বাধ্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বেনজীরের জমিজমা ক্রোকে আদালতের আদেশ হওয়ার পর জমির আগের মালিকরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রাজৈরের কদমবাড়ি ইউনিয়নের সাতপাড় ডুমুরিয়া, নটাখোলা ও বড়খোলা মৌজায় জমি কেনা হয়েছে বেনজীরের স্ত্রীর নামে। বেনজীর ২০২২ সালে অবসরে যাওয়ার এক মাস আগ পর্যন্ত মাত্র দুই বছরে কেনা হয় এসব জমি। ১১৩টি দলিলে কেনা এসব জমির বেশির ভাগই ফসলি। কদমবা‌ড়ি ইউনিয়‌নের ডুমু‌রিয়া মৌজায় ৬২ শতাংশে এক বিঘা। প্রতি বিঘা জ‌মির দাম সর্বনিম্ন সা‌ড়ে চার লাখ থে‌কে পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া শিবচর উপজেলায়ও কিছু জমির সন্ধান পাওয়া গেছে।

রাজৈর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে খোঁজ নিয়ে ১১৩টি দলিলে ৯০ একর জমি বেনজীরের পরিবারের কেনার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া শিবচর পৌরসভার ঠেঙ্গামারা মৌজায় ২০১৫ সালে ৫ কাঠা জমি কেনে বেনজীরের পরিবার। তা ছাড়া লোকজনের মুখে শোনা যাচ্ছে, শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ও চরজানাজাত ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় তার জমি রয়েছে।

সরেজমিন রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামের গেলে কথা হয় সেখানকার স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে। তারা জানান, বেনজীর প্রতি বিঘা সাড়ে ৩ লাখ টাকায় কিনলেও ওই এলাকার জমির প্রকৃত দর আরও এক-দেড় লাখ টাকা বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনজীরের একজন পরিচিত লোক স্থানীয় তৈয়ব আলী। ওই ব্যক্তির মাধ্যমেই এসব জমি কেনা-বেচা হয়েছে।

স্থানীয় ভাষারাম সেন বলেন, ‘আমাদের বাড়ির সঙ্গে ২৪ একর ৮৩ শতাংশ ফসলি জমি আমাদের বংশীয় লোকদের। এই জমি সবটুকুই কিনে নেন সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ। এখানে বিঘাপ্রতি সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন। অথচ ওই জমির দাম আরও অনেক বেশি। ওই সময় ভয়-ভীতি দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন তিনি। প্রথমে চারদিক থেকে জমি কিনে নেন তিনি, মাঝখানে আমাদের জমি থাকায় সেটা লিখে দিতে বাধ্য করেন।’

সাতপাড় ডুমুরিয়া গ্রামের স্বরস্বতী রায় নামে একজন বলেন, ‘আমাদের এই জমিতে ফসল হতো। ওই ফসলে আমাদের জীবন চলতো। পুলিশের ওই লোক লিখে নেওয়ায় আমাদের চাষাবাদ করার আর কোনও সুযোগ নেই। এই ফসলি জমিটুকু অনেক কষ্টে ধরে রাখছিলাম, কিন্তু সেটার আর শেষ রক্ষা হলো না। আমরা হিন্দু বলেই জোর করে সহজে জমি নিতে পারছে। আমরা জমি বিক্রি করতে চাইনি বলে ভয় দেখানো হয়েছিল।’

বড়খোলা গ্রামের বাসিন্দা রসময় বিশ্বাস জানান, তার কাছ থেকে ৩২ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে জীশান মির্জার নামে। বিক্রি করতে না চাওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ায় তিনি বিক্রিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

কদমবাড়ি এলাকার অমল বালা বলেন, ‘জমি বিক্রি করতে না চাওয়ায় আমাদের হুমকি-ধামকি দিয়েছেন বেনজীর আহমেদ। তার লোক দিয়ে বলেছেন, জমি লিখে না দিলে বিমানে করে বাড়িতে নামতে হবে, চার পাশ আটকে দেবেন। এমন অত্যাচারে অনেকেই জমি লিখে দিয়েছে।’

স্থানীয়দের কাছে ‘জমির দালাল’ হিসেবে পরিচিত তৈয়ব আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মাদারীপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বেলাল রিজভী বলেন, ‘সাবেক এই আইজিপি শুধু অবৈধভাবে সম্পদের মালিকই হননি, তিনি রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থেকে বিভিন্ন সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তার বিচার হওয়া উচিত।’

মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সাবেক আইজিপির বাড়ি গোপালগঞ্জে। কিন্তু তার বাড়ির সীমান্ত এলাকা মাদারীপুরের রাজৈরের কদমবাড়িতে বিপুল পরিমাণে সম্পত্তি কেনা আমাদের অবাক করেছে। আমরা জানতে পেরেছি, অধিকাংশ হিন্দুদের জমি তিনি জোর করে কিনেছেন। হিন্দু পরিবারগুলো ভয়ে জমিগুলো তাকে দিতে বাধ্য হয়েছে।’

তিনিও বলেন, ‘জমির মূল্য দিলেও কাউকে ভয় দেখিয়ে ফসলি জমি লিখে নেওয়া চরম অন্যায় কাজ। এর বিচার হওয়া উচিত। মালিকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।’

Source link

Related posts

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

News Desk

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিতে রেলের কর্মীরা?

News Desk

ধুঁকতে থাকা দরিদ্র নারীদের আশার আলো যে হাসপাতাল

News Desk

Leave a Comment