free hit counter
বাংলাদেশ

মজুত চাল কেজিতে ১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি

ভরা মৌসুমেও অস্বাভাবিকভাবে রংপুরে বাড়ছে চালের দাম। প্রকারভেদে গত এক সপ্তাহে প্রতিকেজি চালে ৬-১০ টাকা দাম বেড়েছে। আড়তগুলোতে হাজার হাজার বস্তা চাল থাকলেও দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চালের দাম বাড়িয়ে গত এক সপ্তাহে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে অসাধু আড়তদারদের বিরুদ্ধে। এদিকে, হঠাৎ চালের দাম বাড়ায় স্বল্প আয়ের মানুষ, শ্রমজীবীসহ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। চালের দাম অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে গেছে। কেউ কেউ তিন বেলার পরিবর্তে দুই বেলা ভাত খেতে বাধ্য হচ্ছেন।

দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম রংপুর সিটি বাজার ও মাহিগঞ্জে গিয়ে দেখা গেছে, মোটা চালের দাম ৬ টাকা বেড়ে ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৮ টাকা বেড়ে দেশি স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকায়। ৬০ টাকার মিনিকেট ৭০, ৫৪ টাকার বিআর-২৮ চাল বর্তমানে ৬২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে রাতারাতি চালের দাম কেজিপ্রতি ৬ থেকে ১০ টাকা বাড়লেও এর কারণ হিসেবে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি আড়তদাররা।

আড়তদাররা দাবি করছেন, বড় বড় মিলাররা হাজার হাজার বস্তা চাল গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় দাম বেড়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, সিটি বাজার ও মাহিগঞ্জ মোকামে আড়তদাররা নিজেদের গুদামে হাজার হাজার বস্তা চাল অবৈধভাবে মজুত করে রেখেছেন। আগের দামে কেনা চাল বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।

সিটি বাজারের আফজাল হোসেনের আড়তের ম্যানেজার আফজাল শরীফ জানান, গত এক মাস ধরে তাদের গুদামে দুই হাজারেরও বেশি চাল মজুত ছিল। এরমধ্যে হাজার খানেক বস্তা চাল বিক্রি হয়েছে। আরও হাজারের বেশি বস্তা চাল রয়েছে। কিন্তু অনেক আগের কেনা চাল দুদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৬ থেকে ১০ টাকা দাম বাড়িয়ে বিক্রির বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।

মাহিগঞ্জের বড় একটি আড়তের ম্যানেজার সাহেব আলী জানান, তাদের গোডাউনে দেড় দুই হাজার বস্তা চাল সবসময় মজুত থাকে। মজুত চাল বিক্রি করে দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আবার চাল এনে মজুত করা হয়।

এক সপ্তাহ আগে কেনা চাল কেজিপ্রতি ৬ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের আগের দামে চাল কেনা থাকলেও এখন বড় বড় মোকামে দাম বেড়েছে। তাই আমরা বেশি দামে বিক্রি করছি।’ তিনি এটিকে মালিকের আদেশ বলেও চালিয়ে দেন।

দুই মোকামের শতাধিক চালের আড়তে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ হাজার বস্তা চাল আগের দরে কেনা রয়েছে। গত সাত দিনে এই দুই মোকামের আড়তদাররা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে একসঙ্গে চালের দাম বাড়িয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীরা।

মজুত চাল কেজিতে ১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান জানান, রংপুরে সবসময় ধান-চাল উৎপাদনে উদ্বৃত্ত এলাকা। প্রতি বছর শুধুমাত্র রংপুর জেলা থেকেই উৎপাদিত হয় সাড়ে চাল লাখ মেট্রিক টন চাল। যা দেশের অন্য জেলার চাহিদা মিটিয়ে থাকে। চলতি বোরো মৌসুমে রংপুর জেলায় বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ ৩০ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমি। সেখানে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে ধান চাষ হয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৭ মেট্রিক টন চাল। আশা করা হচ্ছে, উৎপাদন এর থেকে বেশি হবে কম হবে না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলার সব জমির ধান কাটা সম্পন্ন হবে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রংপুর জেলায় উৎপাদিত চাল এখানকার মানুষের চাহিদা মিটিয়ে আরও আড়াই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি উদ্বৃত্ত থাকবে। যা দেশের অন্যান্য জেলার চাহিদা মেটাবে। সেখানে ভরা মৌসুমে অন্য জেলার কথা বাদ দিলাম, রংপুরে চালের দাম বৃদ্ধির কোনও কারণ নেই। এটা সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজি।’

অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত জানিয়ে বলেন, ‘খাদ্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কোনও কারণ নেই।’

এদিকে চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। রিকশাওয়ালা সাজাহান ও কুলি নবাব আলী বলেন, ‘আমাদের আয় বাড়েনি। অথচ চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। ৪০ টাকার মোটা চাল ৪৬ টাকায়  উঠেছে। ফলে তিন বেলার পরিবর্তে দুই বেলা আধাপেট করে ভাত খেতে হচ্ছে।’

একই কথা জানালেন গৃহবধূ সালমা বেগম। তিনি বলেন, ‘যেভাবে চালের দাম বাড়ছে, তাতে চলা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এটা নিয়ে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

Source link