ভেসে গেছে ৫ কোটি টাকার মাছ, এখনও পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
বাংলাদেশ

ভেসে গেছে ৫ কোটি টাকার মাছ, এখনও পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

দুদিন ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজারে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে গত কয়েকদিন পানির নিচে থাকা স্থানগুলোর ক্ষয়ক্ষতি এখন স্পষ্ট হচ্ছে। বাড়িঘর, সড়ক ও ফসলি জমির পাশাপাশি এই বন্যায় মাছের ঘের ও পুকুরের বড় ক্ষতি হয়েছে। অন্তত পাঁচ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনও পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। পানিবন্দি আছেন লক্ষাধিক মানুষজন।

জেলা মৎস্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, বন্যায় অন্তত পাঁচ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এতে ১০ হাজারের বেশি চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহনেওয়াজ সিরাজী রবিবার বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলার সাত উপজেলার ১০ হাজারের বেশি মাছ চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১০৪ হেক্টরের ৭১৮টি পুকুর, জলাশয় ও দিঘীর ২২৫ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। এতে চার কোটি ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ৭৯ মেট্রিক টন মাছের পোনা ভেসে গেছে। যার মূল্য ৭১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে পাঁচ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যায় বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখার মানুষজন। সাত উপজেলার ৪৭ ইউনিয়নের ৪৫০টি গ্রামের সাড়ে তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। এখনও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি আছেন। বন্যাকবলিত এলাকার প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা। তবে শনিবার ও রবিবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি নেমে যাওয়ায় অনেকে বাড়িঘরে ফিরেছেন।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, জেলার সাত উপজেলার ৪৭ ইউনিয়নের ৪৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিন লাখ ৪৭ হাজার ৪০২ মানুষ পানিবন্দি হয়েছিলেন। ২০৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ হাজার বন্যার্ত মানুষ ও ২০০ গবাদিপশু আশ্রয় নিয়েছিল। মেডিক্যাল টিম রয়েছে ৭০টি। পানি বিশুদ্ধকরণ ৬৫ হাজার ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। জেলায় ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে ৪২২ মেট্রিক টন। নগদ দুই লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা, দুই হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, এক হাজার ২০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার ও দুই হাজার ৫০০ প্যাকেট খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যায় জেলায় মারা গেছেন চার জন। এর মধ্যে তিন জন সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং অপরজন বড়লেখা উপজেলার স্কুলশিক্ষার্থী।

রাজনগর, কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় হাকালুকি হাওর, কাউয়াদিঘী ও হাইল হাওর এবং সবগুলো নদ-নদীর পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। উঁচু এলাকার পানি নেমে গেছে। তবে নিচু এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়ির পানি নামেনি। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেকে বাড়িতে ফিরেছেন। তবে দুর্ভোগ বেড়েছে। পানিবাহিত রোগে ভুগছেন পানিবন্দিরা। যারা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে ফিরেছেন, তারা সাপের আতঙ্কে রাতে জেগে থাকছেন। 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার মনু নদীর দুটি পয়েন্টে পানি কমে বিপদসীমার ৩৪১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানি কমে গেছে। কুশিয়ারার পানি কমে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জুড়ী নদীর পানি ১৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানিবন্দি আছেন লক্ষাধিক মানুষজন

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃষ্টি না হওয়ায় সবগুলো নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। মনু নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানিও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি না হলেও বন্যা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে।’

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে। এখন পর্যন্ত বন্যাদুর্গতদের মাঝে দুই হাজার ৬৮৫ প্যাকেট শুকনো খাবার, এক হাজার ২০০ প্যাকেট রান্না খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ৭৫ হাজার ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে আমরা সার্বক্ষণিক সেগুলোর খবর রাখছি। প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দুর্যোগ মোকাবিলায় মাঠে আছেন। ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’

 

Source link

Related posts

যাত্রী-যানবাহনের চাপ নেই দৌলতদিয়া ঘাটে

News Desk

৭ বছর পর সম্মেলন, সিরাজগঞ্জে উজ্জীবিত আ.লীগ নেতাকর্মীরা

News Desk

ঝুপড়ি ঘরে বৃদ্ধ দম্পতির বসবাস, মেলেনি কোনও সহায়তা

News Desk

Leave a Comment