Image default
বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় গোষ্ঠীগত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। সোমবার (১৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিসীমা পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অর্ধশতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। সংঘর্ষে আহতদের জেলা জেনারেল হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কাউকে আটক করেনি পুলিশ।

নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের কালিসীমা পশ্চিম পাড়ার খানিবাড়ি ও সিরাজ আলী বাড়ির গোষ্ঠীর সঙ্গে দোলাবাড়ি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব রয়েছে দীর্ঘদিনের। এটি তাদের গোষ্ঠীগত বিরোধ। এর মধ্যে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা পরিষদ সদস্য বাবুল মিয়া। আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আরজু মিয়া। কয়েকদিন আগে আরজু মেম্বার গ্রুপের বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক শওকত ও তার ছেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিল্লাত মিয়াকে মারধর করেন বাবুল মিয়ার গ্রুপের শহিদুল ইসলাম ডাক্তার ও ইসমাইল মিয়ার লোকজন। এ নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়। রবিবার সন্ধ্যায় একই বিরোধ নিয়ে আবারও মুক্তিযোদ্ধা শওকত তার ছেলেকে মারধর করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। সোমবার সকালে ঘটনাটি থানায় মীমাংসার জন্য সভা ডাকা হয়। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে দুই গোষ্ঠীর লোকজন একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে একে-অন্যের ওপর হামলা চালান। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এ সময় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১০ জন আহত হন।’ 

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনার জন্য জেলা পরিষদ সদস্য বাবুল মিয়া ও মেম্বার আরজু মিয়াকে অভিযুক্ত করেছেন গ্রামের বাসিন্দারা। কালিসীমা পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, ‘বাবুল মিয়া ও আরজু মিয়া গ্রামে নিজস্ব গ্রুপ তৈরি করে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন মাঝেমধ্যে সংঘর্ষে জড়ান। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষজনের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।’

একই পাড়ার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, ‘কী নিয়ে ঝগড়া, তা জানি না। আজ হঠাৎ আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন আরজু মিয়ার লোকজন। ঘরের সব জিনিসপত্র তছনছ করে ফেলেছে। অথচ আমার পরিবারের কেউ এ ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানে না। কিছু হলেই দুই পক্ষের লোকজন গ্রামের সবার বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এতে আমরা সাধারণ মানুষজন ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমার বাড়ি ভাঙার ঘটনার বিচার চাই।’

ওই এলাকার গ্রাম্য পুলিশ সদস্য ইউনুস মিয়া বলেন, ‘আমার বাড়িও ভাঙচুর করেছে তারা। অথচ এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। দুই পক্ষের সংঘর্ষ হলেই একে-অপরের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। এটি অমানবিক।’

হামলায় আহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিল্লাত মিয়া বলেন, ‘আমি ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলাম। রবিবার রাতে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে শহিদ ডাক্তার ও ইসমাইল মিয়ার লোকজন আমাদের মারধর করেন। এতে আমরা আহত হই। ওই ঘটনার জেরে আজ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

সদর মডেল থানার পরিদর্শক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘গোষ্ঠীগত বিরোধে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে দুই পক্ষের। খবর পেয়ে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ। সংঘর্ষে যারাই জড়িত তদন্ত করে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। কোনও পক্ষ মামলা করেনি। ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’

Source link

Related posts

কাগজে-কলমে লেখা শেষ, ৭ জানুয়ারি শুধু ফলাফল ঘোষণা: মঈন খান

News Desk

‘আমাদের হরতাল শেষ, তাই আবার গাড়ি চালাচ্ছি’

News Desk

ঢাকায় বজ্রপাতের সময় দুই বোনসহ তিনজন নিহত

News Desk

Leave a Comment