free hit counter
বাংলাদেশ

বৃষ্টি-উজানের ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি 

টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সিলেটের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হঠাৎ বন্যায় বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ। অনেক এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যায় কোম্পানীগঞ্জে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া সিলেটের সঙ্গে কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাটের সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। তবে জকিগঞ্জে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে গৌরিপুর-কুত্তরঘড়ি এলাকায় ছয়টি ভাঙন কবলিত পয়েন্ট দিয়ে তীব্র গতিতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের ঢলে বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার বেশিরভাগ ইউনিয়নে বিপুল সংখ্যক বাড়িঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। মাঠ ও চারণভূমিতে পানি ওঠায় গোখাদ্য সংকটসহ মৎস্য খামারিরাও রয়েছেন চরম শঙ্কায়।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, সোমবার (১৬ মে) সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১.২৮ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রবিবার সন্ধ্যা ৬টার চেয়ে সোমবার সকালে এ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ০.৩ সেন্টিমিটার। সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে গতকালের চেয়ে বেড়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট পয়েন্টে পানি ছিল ১০.৪৯ সেন্টিমিটার। সোমবার সকালে পানিসীমা দাঁড়িয়েছে ১০.৬৬ সেন্টিমিটার।

কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশিদ পয়েন্টে সকালে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ নদীর পানি শেরপুর পয়েন্টে বেড়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ পয়েন্টে পানিসীমা ছিল ৬.৮৩ সেন্টিমিটার; সোমবার সকাল ৯টায় পানিসীমা হয় ৬.৯৬ সেন্টিমিটার। 

ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টেও পানি বেড়েছে। এখানে সকাল ৬টায় পানিসীমা ছিল ৮.৭০ সেন্টিমিটার; সকাল ৯টায় পানিসীমা দাঁড়ায় ৮.৭৪ সেন্টিমিটার।

 পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে উজান থেকে নেমে আসা ঢল। ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসাম প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, সিলেটে বৃষ্টিপাত অনেকটা কমে এসেছে। তবে ১৮ মে পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২০ ও ২১ মে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম জানান, বন্যা পরিস্থিতির ওপর জেলা প্রশাসনের মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। রবিবার পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য ১০৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Source link