Image default
বাংলাদেশ

বাদ পড়া এক এমপির ছেলে বললেন খেলা হবে, আরেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চান

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটিতে নতুন প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দুই নতুন মুখ হলেন—কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও তিতাস) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুস সবুর ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ জেড এম শফিউদ্দিন শামীম। তবে দুই আসনের সাবেক দুই এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। বাকি ৯টি আসনে আগের প্রার্থীরাই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

কুমিল্লা-১ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো নৌকার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া। তার পরিবর্তে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুস সবুর।

মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে সুবিদ আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এরই মধ্যে সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিনুল হাসানের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। ফলে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিন বারের এই সংসদ সদস্য। এর আগে রবিবার বিকালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ার খবর পেয়ে সুবিদ আলী ভূঁইয়ার ছেলে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘খেলা হবে—ইনশাআল্লাহ, সবাই প্রস্তুত হন।’

কী খেলা হবে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন আমার বাবা। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এজন্য, বলেছি খেলা হবে। নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছি, যাতে তারা হতাশ না হন।’

মনোনয়ন না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সুবিদ আলী ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৬ বছর ধরে রাজনীতি করছি। ইতোমধ্যে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু এবার সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার প্রার্থী করেননি। আবার নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র কিংবা বিদ্রোহী প্রার্থী হতেও নিষেধ করেননি। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সাহস পাচ্ছি। ২৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমার হাজার হাজার নেতাকর্মী ও অনুসারী রয়েছেন। তারা চান, আমি নির্বাচন করি। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে আজ মনোনয়ন ফরম নিয়েছি। আগামী ৩০ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন জমা দেবো।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবা-ছেলে উভয়ে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গিয়ে রাজনীতিতে আসেন। এর মধ্যে কুমিল্লা-১ আসনে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সুবিদ আলী। ছেলে মোহাম্মদ আলী ২০১৪ ও ২০১৯ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হন। বাবা-ছেলের নেতৃত্বে দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে গ্রুপিং রয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দাউদকান্দির বালুমহাল, হাটবাজার ইজারা, সিন্ডিকেট, নিয়োগ-বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ আছে। তার ওপর এবার কুমিল্লা-১ আসন থেকে মেঘনা উপজেলাকে বাদ দিয়ে তিতাস উপজেলাকে সম্পৃক্ত করা হয়। তিতাসে মো. আব্দুস সবুরের প্রভাব বেশি। সেখানে একটি গ্রুপ তার নেতৃত্বে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাংগঠনিক কাজ করছেন। এসব কারণে এই আসনে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যদিও এর আগে একাধিকবার দলীয় মনোনয়ন চেয়ে পাননি সবুর। এবারই প্রথম নির্বাচনে লড়বেন।

মনোনয়ন পাওয়া আব্দুস সবুর বলেন, ‘নেত্রী আমার প্রতি আস্থা রেখে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন, আশা করছি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে নিয়ে আসনটি নেত্রীকে উপহার দিতে পারবো। এলাকার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে প্রার্থী পরিবর্তন চেয়েছেন, এবার তাই হয়েছে। সবাই দলের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো।’

এদিকে, কুমিল্লা-৮ আসনে দুবার নির্বাচন করে দুবারই জয়ী হন বর্তমান সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী। তিনি বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। দলের একাংশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব থাকায় প্রত্যাশিত পদবঞ্চিত নেতারা মিলে প্রার্থী পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করেছেন। এতে নাছিমুল বাদ পড়েন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাছিমুল আলম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার কোনও দূরত্ব নেই। দুবার বরুড়ার উন্নয়নের সঙ্গে আমাকে যুক্ত রেখেছেন এলাকার মানুষজন; তারা আবারও চাচ্ছেন আমি যেন প্রার্থী হই, এজন্য প্রস্তুত আছি। তবে এবার কেন নেত্রী আমাকে নৌকার প্রার্থী করেননি, তা জানি না। বিষয়টি নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করছি। যদি নেত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দেন, তাহলে নির্বাচন করবো। আর যদি অনুমতি না দেন, তাহলে অপেক্ষা করবো।’

এবার নাছিমুল আলমের পরিবর্তে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ জেড এম শফিউদ্দিন। তিনি সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এসকিউ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং বরুড়া উপজেলার আড্ডা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে। 

নতুন মুখ শফিউদ্দিন শামীম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। ফলে দলে ছোটখাটো গ্রুপিং-কোন্দল থাকবেই, সভানেত্রী যেহেতেু আমাকে দলের মনোনয়ন দিয়েছেন, আশা করবো সবাই মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয়ে মাঠে কাজ করবে। আমি দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকবো।’

কুমিল্লার বাকি ৯ আসনে মনোনয়ন পাওয়া আগের সংসদ সদস্যরা হলেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) আসনে সেলিমা আহমেদ মেরী, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে আবুল হাশেম খান, কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর-সিটি করপোরেশন) আসনে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ-নাঙ্গলকোট) আসনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং কুমিল্লা-১১  (চৌদ্দগ্রাম) আসনে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব।

Source link

Related posts

এক জেলায় ১০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা

News Desk

অবরোধে কক্সবাজারে পর্যটন ব্যবসায় ধস, ক্ষতি হাজার কোটি টাকা

News Desk

‘অশনি’ থেকে বাঁচাতে আগাম ধান কাটছেন কৃষকেরা 

News Desk

Leave a Comment