Image default
বাংলাদেশ

বগুড়ায় যুবলীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেফতার ৩

বগুড়ায় যুবলীগ নেতা ও অটোরিকশা মেকানিক মিরাজ আলী (২২) হত্যার ঘটনায় এক কিশোরসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও মিরাজের রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার তিন জনের মধ্যে দুজন হলো–বগুড়া শহরের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে মিঠুন (২৮) এবং সোনাতলা উপজেলার নওদাবগা বুড়িতলা গ্রামের মুন্নু মিয়ার ছেলে তারেক রহমান (১৮)। আরেকজন দশম শ্রেণির ছাত্র।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের এডওয়ার্ড পৌর পার্কের জগিং সেন্টারে মিরাজকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মিরাজ বগুড়া পৌর যুবলীগের ২ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সদস্য ছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সদর থানা ও ডিবি পুলিশের একটি দল আসামিদের গ্রেফতার করতে মাঠে নামেন। রাতভর অভিযান চালিয়ে এক কিশোরসহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, বগুড়া পৌর যুবলীগের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য, অটোরিকশা মেকানিক ও টিকটকার মিরাজের সঙ্গে এক মেয়ের প্রেম ছিল। সম্প্রতি সেই মেয়ের সঙ্গে দশম শ্রেণির এক ছাত্রের  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে মেয়েটি কিশোরের সঙ্গে প্রেম শুরু করে। মিরাজ সেটা টের পান। এরপর মিরাজ ও ওই কিশোর একে অপরকে হুমকি-ধামকি দেয়। 

বিষয়টি মীমাংসা করতে ওই স্কুলছাত্র ও মেয়েটিকে মঙ্গলবার এডওয়ার্ড পৌর পার্কে ডাকেন মিরাজ। সন্ধ্যায় স্কুলছাত্র তার সহযোগী তারেক ও মিঠুনকে নিয়ে পার্কে আসে। তবে মেয়েটি আসে না। সেখানে মিরাজ ও তার বন্ধু নাজমুলের সঙ্গে মিঠুন, তারেক ও আরেকজনের বাগবিতণ্ডা হয়। মিঠুন কাছে থাকা চাকু দিয়ে মিরাজের বুকে দুটি ও নাজমুলের হাতে একটি আঘাত করে পালিয়ে যায়। 

এ সময় পার্কে থাকা লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় মিরাজ ও নাজমুলকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসক মিরাজকে মৃত ঘোষণা করেন। নাজমুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতার তিন জনের মধ্যে মূল অভিযুক্ত কিশোর হওয়ায় তাকে আলাদাভাবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। মিঠুন ও তারেককে বিকালে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। নাজমুল ও মিরাজের ‘প্রেমিকা’কে সাক্ষী করা হবে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই মেয়ের কোনও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সেলিম রেজা জানান, মঙ্গলবার রাতেই নিহত মিরাজের বড় ভাই আতাউর রহমান অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

বগুড়া জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু জানান, মিরাজ আলী পৌর সংগঠনের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন।’

আহত নাজমুল জানান, তারা নিয়মিত টিকটক ভিডিও করতেন। মিরাজ ও তিনিসহ তাদের ২০-২৫ জনের একটি টিকটক গ্রুপ আছে।

Source link

Related posts

খায়রুজ্জামানকে হস্তান্তরে স্থগিতাদেশ মালয়েশিয়ার হাইকোর্টের

News Desk

২০০ টাকা ফেরত চাওয়ায় বন্ধুকে খুন

News Desk

বাঙ্গালহালিয়া বাজারে অবৈধ দখলদারের মহোৎসব

News Desk

Leave a Comment