free hit counter
বাংলাদেশ

পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধে কঠোর হলো বিইআরসি

পুরাতন বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের বিষয়ে এবার কঠোর হলো বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার পর সেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দর অন্তর্ভুক্ত করে পিডিবি আবার বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে না। বিইআরসি বিদ্যুতের বাল্ক মূল্যহার সমন্বয়ের আদেশে এ কথা বলেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পুরাতন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন খরচ বেশি হলেও সেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রকে অবসরে না পাঠিয়ে সিস্টেমে রেখে দেয় পিডিবি। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কার বাবদ যেমন অতিরিক্ত ব্যয় হয়, আবার উৎপাদন দক্ষতা কমে যাওয়াতে অধিক জ্বালানি খরচ হয়। এতে করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের গড় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়ে।

বিইআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, আমরা দেখেছি—অনেকক্ষেত্রে এসব কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ বিদ্যুতের গড় দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রগুলো কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে অর্থাৎ বছরজুড়ে খুব অল্প সময় চলছে। সঙ্গত কারণে এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠছে।

চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে তা নবায়ন করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে পিডিবি চাইলেই পুরাতন কেন্দ্র সিস্টেমে রাখতে পারে। সাধারণত গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০ বছর এবং তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ থাকে ১৫ বছর। কিন্তু পিডিবির কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ বছরের পুরাতন। শুধু পিডিবি নয় ঘোড়াশাল এবং আশুগঞ্জেও এরকম কিছু পুরানো ইউনিট রয়েছে। যার কয়েকটি রিপাওয়ারিং অর্থাৎ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কিছু কেন্দ্র রয়েছে যেগুলো অতিপুরাতন। এসব ইউনিটকে রিপাওয়ারিং করাও সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন দক্ষতা বেশি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কম হয়। একই সঙ্গে একটি কেন্দ্র যদি সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগাতে পারে তাহলেও উৎপাদন খরচ কমে আসে। কিন্তু দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই এই দুই শর্ত পূরণ করতে পারে না।

আশুগঞ্জের ১৫০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। কেন্দ্র দুটি যথাক্রমে ১৯৮৬ এবং ১৯৮৭ সালে উৎপাদনে আসে। কেন্দ্র দুটির একটির বয়স ৩৫ বছর, অন্যটির ৩৬ বছর। ঘোড়াশালে ২১০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র রয়েছে, ১৯৮৯ সালে এটি উৎপাদন শুরু করে। কেন্দ্রটি ইতোমধ্যে ৩৩ বছর পার করেছে। সিলেটে একটি ২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রের বয়স ৩৬ বছরে ঠেকেছে। কেন্দ্রটি ১৯৮৬ সালে চালু করে পিডিবি। ফেঞ্চুগঞ্জ ৯১ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটির বয়স এখন ২৮ বছর। রংপুর এবং সৈয়দপুরে দুটি কেন্দ্র রয়েছে সেগুলোও ৩৫ এবং ৩৬ বছরের পুরাতন। কেন্দ্র দুটি যথাক্রমে ১৯৮৬ এবং ১৯৮৭ সালে উৎপাদন শুরু করে।

এত পুরাতন কেন্দ্র কেন এখনও টিকিয়ে রাখা হচ্ছে—এ বিষয়ে পিডিবির কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। তারা বলছে, নানা করণে কেন্দ্রগুলোকে অবসরে পাঠানো সম্ভব হয় না। কিন্তু কেন্দ্রগুলোকে অবসরে পাঠানোর একটা সময় ইতোমধ্যে তারা নির্ধারণ করেছে। সেগুলো এর আগেও কয়েকদফা করা হলে শেষ অবধি তা ঠিক রাখতে পারে না পিডিবি।

Bednet steunen 2023