free hit counter
বাংলাদেশ

নেওয়া হলো কোটি টাকার ব্যাংক ড্রাফট, ৫ বছরেও হয়নি পরীক্ষা

৬৪ হাজার চাকরিপ্রত্যাশীর ভাগ্য ঝুলে আছে সাড়ে পাঁচ বছর। বেনাপোল কাস্টম হাউসে ১৩ পদে নিয়োগের জট খুলছে না। কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে ঝুলে আছে চাকরিপ্রার্থীদের ভাগ্য। 

দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়োগের সুরাহা করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকি বেনাপোল কাস্টম কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ এক বছর সময় নেয়। যা আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। এর মধ্যে প্রায় চার মাস শেষ হওয়ার পথে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টম হাউসের জনবল সংকট নিরসনের জন্য ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে কম্পিউটার অপারেটর পদে চার, সাঁট লিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে দুই, উচ্চমান সহকারী পদে ছয়, ক্যাশিয়ার পদে এক, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে দুই, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে পাঁচ, গাড়িচালক পদে ১০, টেলিফোন অপারেটর পদে এক, সিপাহী পদে ৫৬, ফটোকপি অপারেটর পদে দুই, ইলেকট্রিশিয়ান পদে এক, অফিস সহায়ক পদে তিন ও নিরাপত্তাপ্রহরী পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে উল্লেখ করা হয়।

এর মধ্যে ১৩ পদে ৯৪ জনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৬৪ হাজার দুটি। জমাকৃত আবেদনের মধ্যে ছিল কম্পিউটার অপারেটর পদে এক হাজার ৩৭৬, সাঁট লিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ৮০৭, উচ্চমান সহকারী পদে ১৮ হাজার ৬১০, ক্যাশিয়ার পদে ৪১৯, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ১৯১, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে পাঁচ হাজার ৩৩২, গাড়িচালক পদে ৯০৭, টেলিফোন অপারেটর পদে ৪৮, সিপাহী পদে ৩২ হাজার ৯২৫, ফটোকপি অপারেটর পদে ২১০, ইলেকট্রিশিয়ান পদে ৭৬, অফিস সহায়ক পদে দুই হাজার ৩৯ ও নিরাপত্তাপ্রহরী পদে ১৪১। এর বাইরে পদের নাম ছিল না এমন আবেদনের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ১৯৮। এরপর নিয়োগ প্রক্রিয়া আর এগোয়নি।

তবে কাস্টম সূত্রগুলো বলছে, আবেদন যাচাই-বাছাই করে ৫২ হাজার পরীক্ষার্থীর চূড়ান্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাদের জন্য ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষার দিন ধার্য করে প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়। সেই লক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। 

নির্ধারিত তারিখে সিপাহী পদে ফিটনেস পরীক্ষাও শুরু হয়। একই সালের ২২ ও ২৩ নভেম্বর সিপাহী পদে শারীরিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় বেনাপোল কাস্টম হাউসে। ৩২ হাজার ৯২৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাত হাজার ৯৬২ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ছয় হাজার ৭৩৫ জন। তাদের ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার জন্য কাস্টম হাউসে পর্যাপ্ত জায়গা ও জনবলের অভাবে বেকায়দায় পড়ে অনেক পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু বেনাপোল কাস্টমের বেতরে সিপাহী পদে ফিটনেস পরীক্ষার সময়ে বেনাপোল কাস্টম কর্মকর্তাদের নানা অনিয়মের বিষয়টি চাউর হয়। যে কারণে ২৫ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় কাস্টম কর্তৃপক্ষ। চাকরিপ্রত্যাশীদের লাগাতার তদবিরে কাস্টম কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর পরীক্ষা গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ অবধি তা বন্ধ হয়ে যায়। 

একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ পরীক্ষা চূড়ান্ত না করায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বেনাপোল কাস্টম হাউসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এই নোটিশ পাওয়ার পর এক বছর সময় বৃদ্ধির আবেদন করে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। যা আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। বর্ধিত সময়ের ইতোমধ্যে প্রায় চার মাস শেষ হওয়ার পথে। অথচ নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জট খুলছে না। কবে নাগাদ কার্যক্রম শুরু হবে সেই বিষয়ে মুখ খুলছেন না কোনও কর্মকর্তা। ফলে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রত্যাশীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কারও বয়স পার হয়ে গেছে।

কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে ঝুলে আছে চাকরিপ্রার্থীদের ভাগ্য

চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, বেনাপোল কাস্টম কর্তৃপক্ষ এই নিয়োগ নিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। বছরের পর বছর পার হলেও জট খুলছে না।

এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘করোনার কারণে দেশে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ ছিল। ধীরে ধীরে দেশ থেকে করোনা মহামারি কমতে শুরু করেছে। খুব তাড়াতাড়ি নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘বেনাপোল কাস্টম হাউস থেকে ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আমাদের কাছে পরীক্ষা গ্রহণের সমস্যাগুলো জানতে চেয়েছে। আমি কিছুদিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্তভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানাবো। আশা করছি, রাজস্ব বোর্ড পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার কার্ড ইস্যু করা হবে। সেই সঙ্গে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে।’

Source link