free hit counter
বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জ আ.লীগের আগামী নেতৃত্ব কার হাতে?

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে উৎসাহ আর উদ্দীপনার আমেজ। ছাপানো হয়েছে দাওয়াত কার্ড, সাঁটানো হচ্ছে সম্মেলনের পোস্টার।

nagad-300-250

আওয়ামী লীগের ‘জন্মজেলা’ ও দলটির ঘাটি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের আগামী নেতৃত্ব কার হাতে আসতে যাচ্ছে, এনিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা।

তবে শীর্ষ নেতাদের আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মত পার্থক্যের মধ্যেই আবারো নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান এমপির নাম। পাশাপাশি রূপগঞ্জের এমপি ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, আড়াইহাজার আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুকে নিয়েও চলছে আলোচনা।

আগামী ২৩ অক্টোবর জেলা এবং এর ঠিক দুদিন পরই তথা ২৫ অক্টোবর হবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। শহরের ইসদাইর এলাকার ওসমান পৌর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আযম এমপি।

এদিকে কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা না দিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে বইছে সম্মেলনের হাওয়া, বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। কারণ এর আগে ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সম্মেলন ছাড়াই আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয় কেন্দ্র থেকে। এর দুই বছর পর ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

এছাড়া একই পন্থায় সম্মেলন ছাড়াই ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ-সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এর ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্র ও বিভিন্ন থানা, উপজেলা এলাকার তৃনমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, সামনে জাতীয় নির্বাচনই শুধু নয়, রাজপথে যেভাবে বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলো নামার আয়োজন করছে তাতে আমাদের প্রয়োজন শক্তিশালী নেতৃত্ব। বিশেষ করে ক্ষমতাকালে পদ ও চেয়ার পেয়ে যারা কর্মীদের মূল্যায়ন করেননি, নৌকা নিয়ে নির্বাচন করে বিএনপি-জামাত কিংবা বামপন্থীদের নিয়ে রাজনীতি করেন এমন কেউ যাতে নেতৃত্বে না আসে সেটাই আমরা চাই।

দলের তৃনমূল নেতারা জানিয়েছেন, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব এমন হাতে দিতে চাই যারা পরীক্ষিত,ত্যাগী ও কর্মী বান্ধব। বিশেষ করে একটি বিষয় মাথায় রেখেই আমরা সম্মেলনে ভোট দিতে চাই সেটি হল, বিএনপি-জামায়াত জোট আবার ক্ষমতায় গেলে কারা নারায়ণগঞ্জে আরামে মিলেমিশে থাকতে পারবেন আর কারা মামলা-হামলা গুম খুনের শিকার হতে পারেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনা রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল।

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অনেকেই। পরিবর্তন ঘটলে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামকে সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে কর্মীদের মধ্যে। সেক্ষেত্রে বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি করা হতে পারে।

সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জের-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, আমরা আশা করছি স্মরণকালের অন্যতম সম্মেলন হবে নারায়ণগঞ্জে। আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেছি তৃনমূল হলো এই দলের অক্সিজেন। তৃনমূলের নেতাকর্মীরা চান যেন ত্যাগীরা মূল্যায়ন পায়। মাথা থেকে পা পর্যন্ত যারা আওয়ামী লীগার তারাই যেন নেতৃত্বে আসেন, কারণ তারাই ত্যাগী ও তৃনমূলকে মূল্যায়ন করতে জানে, সম্মান দিতে জানে, রাজপথে যুদ্ধ করেত জানে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। আশা করছি সফলতার সঙ্গেই সম্মেলন শেষ হবে। সেই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আশার প্রতিফল ঘটবে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই আমাদের প্রস্তুতিমূলক সভা হচ্ছে। কর্মীদের মাঝে প্রাণোচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।

তবে কেন্দ্রীয় সূত্র বলছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজপথের কঠিন সময়কে সামনে রেখে এবার জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে আশা করছি।

Bednet steunen 2023