নারায়ণগঞ্জে পানিতে ডুবেছে সড়ক, ঢুকেছে ঘরেও
বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জে পানিতে ডুবেছে সড়ক, ঢুকেছে ঘরেও

নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। শহরের কিছু নিচু এলাকায় ঘরের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা।

সোমবার (৭ আগস্ট) বিকালে সদর উপজেলার শহর অঞ্চল ও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমেছে।

জানা গেছে, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এরপর সকাল থেকে থেমে থেমে অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে। এতে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পানি কমতে শুরু করেছে।

পানি জমায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ এনায়েতনগর ইউনিয়নের মাসদাইর খেয়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক সোনালী আক্তার বলেন, রাত থেকে ভারী বৃষ্টিতে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। শোওয়ার ঘরে খাটের বিছানা পানি ছুঁই ছুঁই অবস্থা। ঘরের চুলা পানিতে তলিয়ে গেছে। হাঁটু সমান পানিতে কীভাবে বসবাস করবো বুঝতে পারছি না। 

জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইমন সরকার বলেন, ঘরের বাইরে বের হওয়ার জায়গা নেই। পুরো সড়কজুড়ে পানি আর পানি। প্রয়োজনীয় কাজ সারতে রিকশায় চড়ে মূল সড়কে গিয়ে দেখি, সেখানেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে কখনও এতো পানি জমেনি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ডসহ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়ন, কাশিপুর ইউনিয়ন, ফতুল্লা ইউনিয়ন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কিছু অংশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদ বলেন, বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে কাজ করেও জলাবদ্ধতার পানি কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবে ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে পানি কমে যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত জলাবদ্ধতার পানি কমছে না। নদীর পানির স্তর আর ড্রেনের স্তর এক হয়ে গেছে, যে কারণে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। এটা খুবই হতাশাজনক। তারপর আমরা কাজ করে যাচ্ছি পানি অপসারণের জন্য।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অহিদুল ইসলাম ছক্কু বলেন, এমনিতে সারা বছর তল্লা রেল লাইন থেকে হাজিগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত সব সময় জলাবদ্ধতা থাকে। তার ওপরে বৃষ্টির পানিতে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আসলে আমাদের ক্ষমতা কতখানি তা আপনাদের জানা আছে। তাছাড়া বাজেটের বিষয় রয়েছে। তবে ড্রেনের লাইন পরিষ্কার করলে জলাবদ্ধতা সমস্যা কিছুটা হলেও কমতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই ইউনিয়নের পাশে খাল রয়েছে। প্রভাবশালীদের কারণে খালটি প্রায় দখল হয়ে ভরাট হয়ে গেছে। যে কারণে পানি নামার জায়গা নেই। এদিকে গতরাত থেকে ভারী বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। আমার ৯টি ওয়ার্ডের মেম্বারদের নিয়ে আমি কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু পানি অপসারণের সুযোগ নেই। তবে ভারী বৃষ্টি না হলে পানি কমে যাবে।

Source link

Related posts

স্বামীর অ্যাসিড নিক্ষেপের ৮ দিন পর স্ত্রীর মৃত্যু

News Desk

কুষ্টিয়ায় বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড

News Desk

সাড়ে ৯৬ কোটি টাকার চোরাচালান উদ্ধার করেছে বিজিবি

News Desk

Leave a Comment