Image default
বাংলাদেশ

নতুন বছরে কক্সবাজারে নেই আশানুরূপ পর্যটক

পুরনো বছরকে বিদায়, নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রতিবছর কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের সমাগম হলেও এবার নেই আশানুরূপ পর্যটক। হোটেল-মোটেল, সমুদ্রসৈকত ও বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে নেই পর্যটকদের বিচরণ।

রাজনৈতিক অস্থিরতা, ফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধসহ নানা কারণে পর্যটক আসেননি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরপরও যেসব পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন, তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

২০২৩ সালকে বিদায়, ২০২৪ সালকে স্বাগত জানাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আসার কথা লাখ পর্যটক। কিন্তু এবার থার্টি ফার্স্ট উদযাপনে নেই কোনও আশানুরূপ পর্যটক। এক মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, থার্টি ফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধ সহ নানা কারণে পর্যটক খরা কক্সবাজার। সমুদ্রসৈকতে কিছু পর্যটকের দেখা মিললেও, জেলার অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রগুলো রয়েছে ফাঁকা। তবে ইতোমধ্যে যেসব পর্যটক থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন, তারা বলছেন নানা প্রতিকূলের কথা।

রাজধানীর মগবাজার থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটক দম্পতি রুবিনা ইয়াসমিন ও ফাহাদ চৌধুরী জানান, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের জন্য কক্সবাজার এসে ভিন্ন দৃশ্য দেখলাম। সৈকতে অন্যান্য সময়ে তিল ধারণের জায়গা না থাকলেও, এবার একদম ফাঁকা। নেই কোনও কোলাহল।

যশোর থেকে আসা পর্যটক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমরা আট বন্ধু এবার থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে কক্সবাজারে এসে খুব হতাশ। কারণ, এখানে নেই কোনও অনুষ্ঠানমালা। দু-একটি হোটেলের ইনডোরে অনুষ্ঠান হচ্ছে বলে শুনেছি। তবে সেখানে আমাদের যাওয়ার অনুমতি নেই।

চট্টগ্রাম হালিশহর থেকে আসা রবিউল আলম ও স্ত্রী জেনিয়া আকতার বলেন, পুরনো বছরের অনেক স্মৃতি রয়েছে। জীবনের অনেক দুঃখ-কষ্ট ধুয়েমুছে নতুন বছর শুরু করতে চায়। বিকালে পুরনো বছরের শেষ সূর্যাস্তকে বিদায় দিয়ে নতুন সূর্যদয়ের অপেক্ষায় আছি।

থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে প্রচুর পর্যটক সমাগমের আশায় থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন পর্যটন মৌসুম। তারপরও নতুন বছর উদযাপনের এই দিনে পর্যটক না আসায় হতাশা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনুষ্ঠানের ওপর বিধিনিষেধে পর্যটকবিমুখ হয়েছে সাগরপাড়। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটন ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার কারণে সব ধরনের অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধ আরোপ করায় আশানুরূপ পর্যটক কক্সবাজারে আসেননি। অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা পর্যটনশিল্পের জন্য অশনি সংকেত। বিশেষ এবারের এত কম সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ জন্য ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুখিম খান বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধেছিল। কিন্তু সে আশা ধুলোবালিতে মিশে একাকার। মোদ্দাকথা, বছরজুড়ে পর্যটন ব্যবসায় শনির দশা কাটেনি। আমরা আশা করবো নির্বাচনের পর পর্যটকে ভরপুর থাকার স্বপ্ন দেখছি।

এবার কোনও ধরনের আতশবাজি, ফটকাসহ সব ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করায় ভ্রমণকারীরা যায়নি

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে বিভিন্ন তারকা মানের হোটেলের ইনডোরে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোনও ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কোনও ধরনের আতশবাজি, ফটকাসহ সব ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে যেসব পর্যটক ইতোমধ্যে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছেন, তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা, বাড়ানো হয়েছে পুলিশ টিম, থাকছে সাদাপোশাকধারী পুলিশ, সিসি ক্যামরা ও ড্রোন ক্যামরার ব্যবস্থা রয়েছে।

হতাশা নয়, আগামী বছরে সুন্দর পরিসরে কক্সবাজারে যাতে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে পারে এবং কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন জেলাগুলোয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, বিধিনিষেধ আরোপে শিথিলতা ও নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে পর্যটনশিল্পে বিকাশ ঘটবে, এমনটি মনে করছেন সচেতন মহল।

Source link

Related posts

নৌকায় ভোট চেয়ে যশোরে কাজী নাবিলের গণসংযোগ

News Desk

বন্দর নগরীর ৪৯২ স্থান ডেঙ্গুর হটস্পট, এক মাসে রেকর্ড রোগী শনাক্ত

News Desk

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে স্কুল শিক্ষার্থীসহ ৩ জনের মৃত্যু

News Desk

Leave a Comment