Image default
বাংলাদেশ

দ্বিগুণ লাভের আশায় আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রান্তিক ও মাঝারি চাষিরা। আগাম জাতের আলু রোপণের জন্য হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ, জমি প্রস্তত, সার প্রয়োগসহ বিভিন্ন কাজে দিনভর ব্যস্ত রাখছেন নিজেদের। ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে স্বল্পমেয়াদি আগাম আউশ, আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষ করে সেই জমিতে এবার আলু রোপণের পালা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এবার জেলায় আট হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে গত বছর জেলার ছয় উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল আট হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে। সেই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার ৩৩০ হেক্টর বেশি জমিতে আগাম আলু চাষ করা হবে।

বিশেষ করে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা আগাম আলু চাষের ভান্ডার হিসেবে খ্যাত। তাই আলু রোপণকে ঘিরে মাঠজুড়ে কৃষকের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দ্বিগুণ লাভের আশায় মাঠে কেউবা জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কার ও বীজ সংগ্রহ নিয়ে নিজেদের মতো ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর চার হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরে চাষ হয়েছিল চার হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। সে হিসাবে গতবারের চেয়ে এবার ৪০০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হবে।

উপজেলার রণচন্ডী ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের আলুচাষি শাহিনুর বলেন, ‘গত বছর ধান কাটার পর চার একর জমির আলু ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দ্বিগুণ টাকা লাভ হয়েছে। এবারও পাঁচ একরের বেশি জমিতে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে উত্তোলনযোগ্য সেভেন জাতের আলু রোপণ করছি।’

ওই ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ অঞ্চলের জমিগুলো (মাটি) একদম উঁচু এবং বালুমাটি মিশ্রিত। ভারি বৃষ্টিপাত হলেও তেমন কোনও বড় ধরনের ক্ষতির ভয় থাকে না। কয়েক দিন আগে অতিবৃষ্টি হলেও মাটি শুষ্ক রয়েছে। তাই আগেভাগে দ্বিগুণ লাভের আশায় আগাম আলু রোপণ করছি। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় গতবারের চেয়ে ফলন ভালোর আশায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছি।’

একই উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাহাগিলী গ্রামের আলুচাষি রিপন ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেক বছরের মতো এবারও ১১ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণের প্রস্ততি নিয়েছি। এর মধ্যে সেভেন জাতের চার বিঘা জমিতে বাকি সাত বিঘা দুই-একদিনের মধ্যে রোপণ শেষ করবো। আবহাওয়া ভালো থাকলে ৫৮ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আলু ঘরে তুলতে পারবো। বাজারদর ভালো পেলে সার, বীজ, পরিবহন ও শ্রমিক বাবদ খরচ বাদে ১১ বিঘায় লাভ হবে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত।’

একই এলাকার মমতাজ আলী ছয় বিঘা, আব্দুল জব্বার ১৩ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করছেন। তারা জানান, এ এলাকার মাটি উঁচু এবং বালুমিশ্রিত হওয়ায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে আগাম আলু চাষে তেমন কোনও ভয় থাকে না। ফলন কম হলেও রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে চড়া দামে আলু বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভবান হওয়া যায়।

আলুচাষি আব্দুল জব্বার বলেন, ‘যার আলু যত আগে উঠবে সেই কৃষক তত ভালো দাম পাবেন। তাই সবাই টাকা পয়সা ব্যয় করে দুই টাকা লাভের আশায় আগাম সেভেন জাতের আলুসহ গ্র্যানুল্যা, সাকিতা, কারেজ ও জামপ্লাস আলু রোপণ করছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উঁচু জমির আগাম ধান কেটে আলু চাষে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি।’

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, ‘উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আগাম আলু চাষের জন্য খুবই উপোযাগী। প্রতি বছর এ এলাকার কৃষক আগাম আলু চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করে থাকেন। গত বছরের চেয়ে এবার ৪০০ হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য আমাদের কৃষি অফিস থেকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আগাম আলু চাষে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. এসএম আবু বক্কর সাইফুল ইসলাম জানান, কিশোরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া আগাম আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এই উপজেলা আগাম জাতের আলু চাষে খ্যাত। এখানকার উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়। গত বছরের চেয়ে এবার বেশি জমিতে আগাম আলু চাষ করা হবে। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারদর ভালো পেলে কৃষকরা এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ও লাভবান হবে।

Source link

Related posts

চট্টগ্রাম সিটির বর্জ্য অপসারণ করবে ৫ হাজার শ্রমিক 

News Desk

খুলনা বিভাগে করোনায় এক মাসে ৭৮৪ জনের মৃত্যু

News Desk

হিলিতে আবারও কমেছে তাপমাত্রা, বেড়েছে শীত

News Desk

Leave a Comment