Image default
বাংলাদেশ

দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন: বৈরী আবহাওয়ায় মানুষের ঢল

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক পর্যটক, ভক্ত-পূজারি ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে হয়ে গেলো দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন। রং ছিটিয়ে, আতশবাজি ফুটিয়ে ও ঢাকঢোল বাজিয়ে বের করা হয় শোভাযাত্রা। ঘূর্ণিঝড় হামুনের ৭ নম্বর বিপদসংকেতের মধ্যে বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রতিমা বিসর্জনে ঢল নামে মানুষের।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি আবার কখনও ভারী বৃষ্টিপাত হয় কক্সবাজারে। সন্ধ্যায় নানা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জন। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে শারদীয় দুর্গোৎসবের।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রমতে, সৈকতের লাবণী পয়েন্টে এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১৫১টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে কক্সবাজারের রামুর বাঁকখাল নদী, চকরিয়ার মাতামুহুরী, টেকনাফের সাগর ও নাফনদী, উখিয়া ও রেজুনদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। রামু ও চকরিয়ায় পৃথক প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানকে ঘিরে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দুপুর ২টার পর থেকে জেলার উখিয়া, টেকনাফ, সদর, ঈদগাঁও, চৌফলদন্ডী ছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা আসতে শুরু করে। প্রতিমায় ভরে যায় অনুষ্ঠানস্থল। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সৈকতের বালুচরে রাখা দুর্গা প্রতিমা ঘিরে চলে ভক্তদের শেষ আরাধনা। শুধু তাই নয়, নাচে-গানে এক অন্য রকম আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় বিশ্বের দীর্ঘতম এ সৈকতে। প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানকে ঘিরে সমাগম ঘটে পর্যটকসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কয়েক হাজার মানুষের।

কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে চলে প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠান। জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল করের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংসদ সদস্য কানিছ ফাতেমা আহমেদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান, ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো জিল্লুর রহমান, পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম, পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান প্রমুখ।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল কর বলেন, ‘জেলায় ৩১৫টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫১টি প্রতিমা পূজা আর ১৬৪টি ঘট পূজা। প্রতিটি পূজামণ্ডপে ছোট বড় ছয়টি প্রতিমা ছিল।’

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে প্রবেশমুখে চেকপোস্ট স্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, ‘প্রতিমা বিসর্জনের দিনে সমুদ্রসৈকতে অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। বিচের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেল্প ডেস্ক রয়েছে। কেউ বিপদে পড়লে আমাদের জানালে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারবো।’

উল্লেখ্য, পূজা চলাকালীন যাতে কোনও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পূজাকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। সকল পূজামণ্ডপে প্রশাসনের নজরদারি তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

Source link

Related posts

সাভারে চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণ : ৫ আসামি রিমান্ডে

News Desk

চট্টগ্রামে টেনশন গ্রুপের ৯ সদস্য গ্রেফতার

News Desk

কুড়িগ্রামে কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সৎবাবা গ্রেপ্তার

News Desk

Leave a Comment