Image default
বাংলাদেশ

তীব্র গরমে স্বস্তির ‘রাস্তার শরবতে’ হতে পারে বিপদ

প্রখর রোদ আর তীব্র গরমে অতিষ্ঠ বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মানুষ। টানা তাপপ্রবাহে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন ফুটপাতের শরবতে। নগরীর প্রতিটি মোড়ে, ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে শরবত। তবে এই শরবতে হতে পারে বিপদ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক-ফুটপাতে বিক্রি হওয়া খোলা শরবত কিছুতেই খাওয়া যাবে না। এসব শরবত খেলে ডায়রিয়াসহ নানা রোগের ঝুঁকি আছে।

গরমের তৃষ্ণা মেটাতে বিভিন্ন শরবত বিক্রি হচ্ছে ভাসমান দোকানগুলোতে। এখানে লেবুর শরবত, ইসবগুলের ভুসি, অরেঞ্জ পাউডার, অ্যালোভেরা শরবত ও আখের রস বিক্রি হচ্ছে। এসব শরবতের বেশিরভাগ ক্রেতাই রিকশাচালক, দিনমজুর, চালক, হেলপার ও পথচারীরা।

নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় শরবত বিক্রেতা যুবক মাহফুজ বলেন, আমি চার বছর ধরে এ জায়গায় শরবত বিক্রি করে আসছি। গত ১৫ দিন ধরে বেশি গরম পড়ছে। এ কারণে বিক্রিও বেড়েছে। আমি প্রতি গ্লাস লেবুর শরবত ১০, অরেঞ্জ পাউডারের ১০, ইসবগুলের ভুসির শরবত ১৫, অ্যালোভেরার শরবত ১৫ ও পেঁপের শরবত ৩৫ টাকায় প্রতি গ্লাস বিক্রি করছি।

তবে তীব্র গরমে ফুটপাতে বিক্রি হওয়া এ শরবত কতখানি স্বাস্থ্য সম্মত তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

তীব্র গরমে স্বস্তির ‘রাস্তার শরবতে’ হতে পারে বিপদ

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়কে-ফুটপাতে বিক্রি হওয়া শরবত কিছুতেই খাওয়া যাবে না। প্রথমতো এগুলো কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি শরবত খেলে ডায়রিয়াসহ নানা রোগ হবে। এ ছাড়া এসব শরবত বরফ দিয়ে অতি ঠান্ডা করে রাখা হয়। তীব্র গরমে এসব ঠান্ডা শরবত খেলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ নানা রোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কিছুতেই বাইরে বিক্রি হওয়া খোলা শরবত খাওয়া যাবে না। কেননা এসব শরবত খেয়ে মানুষ নানাবিধ অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেক রোগী র সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তীব্র গরমের অস্বস্তিতে সড়কে-ফুটপাতে বিক্রি হওয়া শরবত খেয়েছে। এতে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ গরমে প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের না হওয়ায় ভালো। বের হলেও ছায়া যুক্ত স্থানে থাকতে হবে। বেশি করে পানি খেতে হবে। অবশ্যই বাড়িতে যে পানি পান করা হয় সেটি হলে ভালো হয়। ফলের রস খেলেও ভালো।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সোমবার চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এপ্রিল মাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকার কথা ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাস কমে গেলে বৃষ্টিপাত হতে পারে।

Source link

Related posts

এটিএম থেকে লোপাট আড়াই কোটি টাকা

News Desk

জমজমাট চট্টগ্রামের নিউমার্কেট, দিনে বিক্রি ১৫ কোটি

News Desk

লকডাউনে ঢাকার রূপ বদল, বায়ুদূষণের বিশ্বে ২১তম

News Desk

Leave a Comment