Image default
বাংলাদেশ

তিস্তায় অস্বাভাবিক পানিবৃদ্ধি, ৭০ হাজার পরিবারকে সরিয়ে নিতে মাইকিং

অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল, সেইসঙ্গে ভারতের উজানে মারাত্মক পানিবৃদ্ধির কারণে তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার (৪ অক্টোবর) দুপুর থেকে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার চরাঞ্চলে বসবাসকারী ৫০টি গ্রামের ৭০ হাজার পরিবারকে বাড়িঘর ছেড়ে মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিং শুরু করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলো ৬ থেকে ৭ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার। তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেটের সবগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

বুধবার বিকাল থেকে গঙ্গাচড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন ও নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না নিজেরাই লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চর বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকযোগে চরবাসীকে দ্রুততার সঙ্গে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে আহ্বান জানাচ্ছেন। সেইসঙ্গে তিস্তা নদীতে মাছ ধরা নৌকাসহ সব ধরনের নৌকা চলাচল পরবর্তী নিদের্শ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের মাইকিংয়ের পর পুরো গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের ২৫টি গ্রামে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার বিকাল ৪টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ভারতীয় সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুংথাং ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উজানের পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজ পয়েন্টে ২৮৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি বাংলাদেশের ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ হলেও এখন ৫২ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে পানিবৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। এর ফলে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার নদী তীরবর্তী এলাকাসমূহ প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকাসমূহ প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ভারতের সিকিম অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীসংলগ্ন অঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে তিস্তা নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে রাতের মধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

এদিকে বিকাল সোয়া ৫টায় রংপুরের জেলা প্রশাসক মোবাশ্বের হাসান লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে গিয়ে বাসিন্দাদের গরু-ছাগলসহ মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেছেন। তিনি জানান, পরিবারগুলোর জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারের জন্য রাখা হয়েছে ব্যবস্থা।

এদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর, নোহালী ও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামসহ কাউনিয়া উপজেলার ধুসমারার চর, আজম খাঁ চর, হাইবত খাঁ গোনাই, পল্লীমারী চর, একতা চর মিলনবাজার, গোপীকাল্লা, ডালার চর ও গোদাই চরের ৭০ হাজার পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

Source link

Related posts

‘জানি না সেই ৪ বৃদ্ধ ধ্বংসস্তূপে এখনও বেঁচে আছেন কিনা’

News Desk

মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছুটি হলেও প্রাথমিক খোলা, বিভ্রান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

News Desk

পড়াশোনার পাশাপাশি ডাকাতি

News Desk

Leave a Comment