Image default
বাংলাদেশ

জাহাজে ওঠার পর কোরআনের সুরা শুনিয়ে দস্যুদের নিবৃত করা হয়

বাংলাদেশি পতাকাবাহী ‘এমভি আবদুল্লাহ’ জাহাজের ২৩ নাবিক সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে কাটিয়েছেন ৩৩ দিন। এই সময়ে দস্যুরা নাবিকদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করেছেন। মুক্তি পাওয়ার জন্য ও প্রাণে বেঁচে থাকতে দস্যুদের নানাভাবে সামলেছেন নাবিকরা।

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের ২৩ নাবিক মুক্তির এক মাস পর ফিরেছেন দেশে। মঙ্গলবার (১৪ মে) নাবিকরা বাড়ি ফিরেছেন। দেশে ফিরে নাবিকরা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছেন দস্যুদের হাতে জিম্মি অবস্থায় কাটানো দিনগুলোর লোমহর্ষক ঘটনাবলি।

যেভাবে দস্যুদের কবলে পড়েছিল এমভি আবদুল্লাহ

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের জেনারেল স্টুয়ার্ড মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বলেন, ‘১২ মার্চ সকাল ১০টার দিকে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছিলাম। ভারত মহাসগরে দিয়ে যাওয়ার পথে দেখা যায় একটি ইরানি মাছ ধরার ট্রালার। ওই ট্রালারে করে সাগরে রেকি দিচ্ছিল জলদস্যুরা। জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে দেখে ওই ট্রলার থেকে একটি স্প্রিডবোট নামে। স্প্রিডবোটটি দ্রুত গতিতে আমাদের জাহাজের দিকে আসতে থাকে। সেখানে চার জন অস্ত্রধারী দস্যু ছিল। বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।’

‘ক্যাপ্টেন জাহাজের গতি বাড়িয়ে দিয়ে দস্যুরা যাতে উঠতে না পারে এ জন্য জাহাজটি আঁকা-বাঁকা করে চালাচ্ছিল। তবে আমাদের জাহাজে পণ্য ভর্তি থাকায় পানি থেকে উচ্চতা কম ছিল। এ ছাড়াও সাগরে ঢেউ কম থাকায় দ্রুত দস্যুরা জাহাজে উঠে যেতে সক্ষম হয়। এরপর ওই দুই স্পিডবোট ট্রলার থেকে আরও দস্যু নিয়ে আসে। প্রথমে দস্যুরা আমাদের সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে। এরপর অল্প সময়ে পুরো জাহাজের নিয়েন্ত্রণ নেয়। তখন ফাঁকা গুলি ছুড়ে আত্নক সৃষ্টি করে।’

কোরআনের সুরা শুনে দস্যুরা নিবৃত হয়

জাহাজের অয়েলার আইনুল ইসলাম বলেন, ‘দস্যুরা জাহাজ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ২৩ নাবিককে ব্রিজে নিয়ে আসে। সেখানে আমরা সবাই হাঁটু গেঁড়ে হাত ওপর দিয়ে দিয়ে বসে পড়ি। তাক করা ছিল বন্দুক। একসময় সিনেমায় দেখিছিলাম এমন দৃশ্য। আমাকে বাস্তবে এভাবে বসতে হয়েছে। তখন দস্যুরা এমন অবস্থা করে যাতে মনে হলো, এখন বুঝি সবাইকে লাইন ধরে গুলি করে মেরে ফেলবে। তখন ক্যাপ্টেন আবদুর রশিদ স্যার দস্যুদের নানাভাবে শান্ত করার চেষ্টা করে। তিনি দস্যুদের বলেন, তোমরাও মুসলিম আমরাও মুসলিম। তখন দস্যুদের কথায় ক্যাপ্টেন কোরআনোর কয়েকটি সুরা শুনিয়ে দেন। তখন তারা বলে, ওকে বুঝলাম তোমরা মুসলিম। মারবো না, তবে যা বলি তা করতে হবে। তখন ক্যাপ্টেন বলেন ওকে।’

সবচেয়ে আতঙ্কের দিন

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘দস্যুদের কবলে পড়ার পর প্রতিটি দিনই কোনও না কোনও আতঙ্কের মধ্যে কেটেছে। জিম্মি দশার কয়েকদিন পরই ঘটেছে সবচেয়ে খারাপ ঘটনা। প্রথমে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধ জাহাজ আমাদের জাহাজের পিছু নেই। ওই যুদ্ধ জাহাজ থেকেও দস্যুদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়। দস্যুরা এতে ভয় পায়নি। তখন তারা আমাদেরকে জাহাজের ব্রিজের ওপর নিয়ে মাথায় বন্দুক তাক করে রাখে। ভারতীয় নৌবাহিনীকে বোঝাতে চেষ্টা করেছে যাতে তারা কাছে এলে আমাদেরকে গুলি করে মেরে ফেলবে। এরপর ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজটি দূরে চলে যায়।’

তিনি বলেন, ‘এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধ জাহাজ দস্যুদের কবল থেকে আমাদের মুক্ত করতে চেয়েছিল। জাহাজের পাশাপাশি একটি হেলিকপ্টার আমাদের জাহাজের ওপর চক্কর দেয়। এমনকি ড্রোনের সাহায্যে জাহাজ মনিটরিং করা হয়েছিল। আমাদের জাহাজে থাকা দস্যুদের ওপর আক্রমণের জন্য পুরো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী। আমাদের জাহাজ তখন সোমালিয়ান কোস্টের মধ্যে ছিল। জলদস্যুরাও বুঝে গিয়েছিল, আজকে তাদের ওপর অ্যাটাক হবে। সেদিন রাত ৮ কিংবা ৯টার দিকে দেখা গেছে, ৩-৪টি ড্রোন আমাদের জাহাজের চারপাশে উড়ছে। তার ওপর একটি হেলিকপ্টার আকাশে চক্কর দিচ্ছে। সামান্য দূরত্বে দুই পাশে দুটি নেভিদের যুদ্ধ জাহাজ। তখন দস্যুরা আমাদের ব্রিজের ওপর এনে অস্ত্র ঠেকায়। দস্যুরা বলে, নেভি না গেলে আমাদেরকে গুলি করে দেবে। ক্যাপ্টেনকে দিয়ে দস্যুরা বলানোর চেষ্টা করছে যাতে তারা অপারেশন না করে ফিরে যায়। আমাদের ক্যাপ্টেনের কথা আমলে নিচ্ছিল না ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী।’

তিনি আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে নেভির জাহাজগুলো থেকে জোরে জোরে মাইকের মাধ্যমে বলা হয়, তোমরা স্যারেন্ডার করো, না হয় আমরা অপারেশন চলাতে বাধ্য হবো। তখন নেভির জাহাজ থেকে কাউন্টডাউন শুরু করে। ৩০ থেকে শুরু হওয়া কাউন্টডাউন অবস্থায় দস্যুরা কেউ মাথায়, কেউ বুকে অস্ত্র তাক করে ধরে রাখে। তখন মনে করেছিলাম, আজ বুঝি এখানেই শেষ। আমরা যে যার মতো করে দোয়া কালেমা পড়েছি। দস্যুরা এত বেশি হিংস্র ছিল তারা বলে, মরলে আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে মরবে। ক্যাপ্টেন স্যার সঙ্গে সঙ্গে এসআর শিপিংয়ের সিইও মেহেরুল করিমের সঙ্গে ফোন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান। পরে জেনেছি, আমাদের অফিস থেকে সঙ্গে সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন সরকারের মধ্যস্থতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী অপারেশন না করেই ফিরে যায়। তখন দস্যুরা বলে, এখন আমরাও নিরাপদ, তোমরাও।’

মাদক নিয়ে তিন দিন পর্যন্ত না ঘুমিয়ে থাকতো দস্যুরা

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের অয়েলার মো. আলী হোসেন বলেন, ‘সোমালিয়ান দস্যুদের সঙ্গে ৩৩ দিন কাটিয়ে দেখেছি, তারা সভ্যতা কী জিনিস তাও জানে না। এমনকি জানে না কীভাবে ভাত খেতে হয়। প্লেটে খাবার নিলে কিছু খেত বাকিটা নষ্ট করতো। এরা খাবার খাওয়ার চেয়ে নষ্ট করতো বেশি। একাধারে ৩/৪ দিন না ঘুমিয়ে থাকতে পারতো। এ জন্য তারা একধরনের পাতা খেত। যেগুলো মাদক। পাতা জাতীয় এ মাদক খেলে নাকি এভাবে না ঘুমিয়ে থাকা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ঘুমাতে গেলেও সেখানে বন্দুক ধরে রাখতো। দেখা যেতো যখন ঘুমিয়েছি, ঘুম থেকে চোখ খুলে দেখতাম আমার সামনে ভয়ংকর চেহারার দস্যু অস্ত্র ধরে রেখেছে। এ ৩৩টি দিন খুব খারাপ কেটেছে। এগুলো কিছুতেই ভুলে থাকার নয়।’

২২ জনকে ছেড়ে দিয়ে আমাকে মেরে ফেলুন

জাহাজের ক্যাপ্টেন আবদুর রশিদ বলেন, ‘দস্যুরা কিছু কিছু সময় এমন আচরণ করতো মনে হতো এ বুঝি এখনই আমাদের গুলি করে মেরে ফেলবে। আমি তাদেরকে বলেছি, মারতে হলে আমাকে মেরে ফেলুন। আমার বাকি ২২ সঙ্গীকে ছেড়ে দিন। তবে যেকোনও পরিস্থিতিতে আমরা মাথা গরম করিনি। মাথা ঠান্ডা রেখেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

একজনকে মারতে চেয়েছিল দস্যুরা

ক্যাপ্টেন আবদুর রশিদ বলেন, ‘ঈদের দিন দস্যুদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আমরা জাহাজের ওপর ঈদের নামাজ আদায় করেছি। ওই সময় দস্যুরা আমাদের চারপাশে অস্ত্র তাক করে পাহারায় ছিল। নামাজ শেষে জাহাজের চিফ অফিসার আতিক উল্লাহ খানের ক্যামেরায় ঈদের নামাজ শেষে সবার একসঙ্গে ছবি ধারণ করা হয়েছিল। ছবিটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে দস্যুরা আতিক উল্লাহ খানের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের কমান্ডারের নির্দেশে তার ওপর অ্যাকশানে যেতে চেয়েছিল। পরে তাকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করেছি। যে ক্যামেরা দিয়ে ছবিটি তোলা হয়েছিল সে ক্যামেরা এবং তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ নিয়ে যায় দস্যুরা।’

মুক্তির দিন ছিল সবচেয়ে আনন্দের

জাহাজের অয়েলার মো. শামসুদ্দিন বলেন, ‘যখন দস্যুরা নেমে গেছে তখন সবচেয়ে বেশি আনন্দ লেগেছে। তখন আমরা কেউ সিজদায় পড়ে যাই, একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কান্না করেছি। এটা ছিল আনন্দের কান্না। তখন কী আনন্দ পেয়েছি তা বলে বুঝাতে পারবো না।’

মুক্তিপণ দেওয়ার দিন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়

জেনারেল স্টুয়ার্ড নুর উদ্দিন বলেন, ‘দস্যুদের যেদিন মুক্তিপণ দেওয়া হয় সেদিন সব নাবিকদের জাহাজের ডেকে লাইন ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তারা আমাদের ওপর পেছন থেকে অস্ত্র তাক করে রাখে। তখন মনে করেছিলাম, আমাদেরকে মেরে ফেলবে। তখন নানাভাবে আমাদের ভয় দেখাতে থাকে। তবে কী পরিমাণ মুক্তিপণ দেওয়া হয় তা আমাদের জানা নেই।’

যেভাবে মুক্তিপণ দেওয়া হয়

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নাবিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুক্তির আগের দিন দিনের বেলায় মুক্তিপণ দেওয়া হয়। ছোট আকারের একটি এয়ারক্রফট এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের সামনে চক্কর দিতে থাকে। ওই সময় জলদস্যুরা দুটি স্পিডবোট নিয়ে জাহাজের সামনে অবস্থান নেয়। এয়ারক্রফটি একবার চক্কর দিয়ে একটি করে ব্যাগ পানিতে ফেলছিল। তারপর স্পিডবোটে থাকা জলদস্যুরা সেই ব্যাগ তুলে নিচ্ছিল। এভাবে তিনবার তিনটি ব্যাগ ফেলা হয়। প্রতিবারই জলদস্যুরা উল্লাস করছিল। তৃতীয় ব্যাগ ফেলার পর এয়ারক্রফটি ঘুরে গন্তব্যের দিকে চলে যায়। এর আগে জাহাজে থাকা একজন ইংরেজি জানা লোক কেএসআরএম গ্রুপের মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এর মাধ্যমেই মুক্তিপণের বিষয়টি নির্ধারিত হয়।’

তবে তিনটি ব্যাগে কত টাকা মুক্তিপণ ছিল তা জানা নেই নাবিকদের। তবে বলা হয়, মুক্তিপণের পরিমাণ ছিল ৫০ লাখ ডলার।

ফিরে আসা ২৩ নাবিক হলেন- এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ, চিফ অফিসার মো. আতিক উল্লাহ খান, সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, থার্ড অফিসার এন মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, ডেক ক্যাডেট মো. সাব্বির হোসাইন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার এএসএম সাইদুজ্জামান, সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌফিকুল ইসলাম, থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. রোকন উদ্দিন, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমেদ, ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান, ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ, এবি পদের মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, মো. আসিফুর রহমান, মো. সাজ্জাদ হোসাইন, জয় মাহমুদ, ওএস পদের মো. নাজমুল হক, অয়েলার পদের আইনুল হক, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, মো. আলী হোসেন, ফায়ারম্যান মোশাররফ হোসেন শাকিল, চিফ কুক মো. শফিকুল ইসলাম, জিএস পদের মোহাম্মদ নুর উদ্দিন ও ফিটার মোহাম্মদ সালেহ আহমদ।

মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকাল ৪টায় এমভি জাহান মণি-৩ নামে একটি লাইটার জাহাজ আবদুল্লাহ জাহাজের ২৩ নাবিককে কুতুবদিয়া উপকূল থেকে নিয়ে আসে। লাইটার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল জেটিতে ভিড়ে। এরপর বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে নাবিকরা একে একে জাহাজ থেকে নেমে আসেন। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের মালিকপক্ষ তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল জেটি চত্বরে আয়োজন করা হয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলে নোঙর করে। গত ৩০ এপ্রিল ভোর ৪টার দিকে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর থেকে ৫৬ হাজার মেট্রিক টন চুনাপাথর নিয়ে দেশের পথে রওনা দেয়।

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি কেএসআরএম গ্রুপের এসআর শিপিংয়ের মালিকানাধীন। এসআর শিপিং সূত্র জানিয়েছে, এমভি আবদুল্লাহ গত ৪ মার্চ আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মাপুটো বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ১৯ মার্চ সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হারমিয়া বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। এর মধ্যে ১২ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে জাহাজটি। প্রায় এক মাস পর গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মুক্তিপণের বিনিময়ে জাহাজসহ ২৩ নাবিক মুক্তি পায়।

সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়া এটি ছিল বাংলাদেশের পতাকাবাহী দ্বিতীয় জাহাজ। এর আগে ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে একই মালিক কেএসআরএম গ্রুপের জাহাজ এমভি জাহান মণি। ওই বছরের ১৪ মার্চ ৯৯ দিন পর জাহাজটির ২৫ নাবিক এবং প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রীসহ ২৬ জন মুক্তি পান দস্যুদের কবল থেকে।

Source link

Related posts

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৬৯ বছরে কতদূর এগুলো

News Desk

বিএনপির সমাবেশে যাচ্ছে—এ সন্দেহে গফরগাঁওয়ে শ্রমিককে কুপিয়ে জখম

News Desk

বছর না যেতেই ফাটল, ভেঙে ফেলা হলো উপহারের ৩টি ঘর

News Desk

Leave a Comment