free hit counter
বাংলাদেশ

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধন হচ্ছে একটি শিশু পৃথিবীর আলো দেখার পর তাকে দেশের একজন সদস্য হিসাবে সরকারি খাতায় রেজিষ্ট্রেশন করতে হয় আর সেটাই মূলত জন্ম নিবন্ধন। জন্ম নিবন্ধন সনদ করার মাধ্যমে একটি শিশু প্রাপ্ত বয়স পর্যন্ত না হাওয়া পর্যন্ত তার পরিচয় বহন করে থাকে।

আর পরবর্তীতে সে জন্ম নিবন্ধন কার্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত বয়সে এনআইডি কার্ড করে বাংলাদেশের একজন সুনাগরিক হিসাবে স্বীকৃত পাবে। আর ১৮ বছর বয়স না হাওয়া পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধন সনদটি একটি শিশুর প্রথম পরিচয় পত্র। এই বয়সে যদি প্রাইমারি, সেকেন্ডারি তে পড়তে চায় তাহলে তাকে জন্ম নিবন্ধন কার্ডের মাধ্যমে ভর্তি হতে হবে।

বাংলাদেশের গনপ্রজাতন্ত্রী সরকার কতৃক ২০০৬ সালে জাতি,ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাধ্যতামূলক ভাবে জন্ম নিবন্ধন কার্ড করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর পরবর্তীতে সোনার বাংলাদেশকে আর উন্নত কিংবা ডিজিটালে রুপান্তরিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কতৃক ঘোষিত ২০১০ সাল থেকে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ কার্যক্রমটি চালু করেন। আর বর্তমান প্রায় ১০০ ভাগেই জন্ম নিবন্ধনটি অনলাইনের আওতায় আসছে।

জন্ম নিবন্ধন যেসকল ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে-

(১) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি।
(২) জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি।
(৩) ভোটার তালিকা প্রণয়ন।
(৪) পাসপোর্ট ইস্যু।
(৫) ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু।
(৬) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা হিসাব খোলা।
(৭) বিবাহ নিবন্ধন।
(৮) সন্তানের জন্ম নিবন্ধন তৈরি।
(৯) সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি।
(১০) সরকারী, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ।
(১১) জমি রেজিস্ট্রেশন।
(১২) গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি।
(১৩) টিআইএন বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার প্রাপ্তি।
(১৪) ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রাপ্তি।
(১৫) ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি।
(১৬) বাড়ির নকশা অনুমোদন প্রাপ্তি।
(১৭) গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্তি।
(১৮) আমদানী ও রপ্তানি লাইসেন্স প্রাপ্তি ইত্যাদি।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার প্রক্রিয়া

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার জন্য আপনাকে ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বরত কর্মকর্তার হাতে প্রত্যয়নপত্র জমা করতে হবে। আর যদি আপনি নিজেই পারেন তাহলে তো কোনো কথায় নাই। তাহলে আপনি হাতে থাকা স্মার্ট ফোনটির মাধ্যমে ঝটপট করে ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে br.lgd.gov.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। প্রবেশ করার পর একটি ফরম দেখতে পারবেন। আর সেখানে জন্ম নিবন্ধনের সঠিক তথ্য বসাতে হবে এবং কাজটি সম্পূর্ণ হলে আপলোড করুন। সঠিক নিয়মে যদি ফরমটি পুরন কর হয় তাহলে ঐখানে উল্লেখ্যিত নাম্বারে ফিরতি মেসেজ আসবে।

প্রক্রিয়াটি কমপ্লিট আপনি চাইলে ১৫ দিন পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়ে আসতে পারেন কিংবা অনলাইনে ডাউনলোড করতে পারেন।

জন্ম তথ্য প্রদানকারী কারা?

জন্ম তথ্য প্রদানকারী কারা? এই প্রশ্নের জবাবে অবশ্যই শিশুর বাবা-মা কিংবা অন্য অবিভাবক। শিশু ভূমিষ্ট হাওয়ার ৪৫ দিন পর জন্ম সংক্রান্ত তথ্যবলী নিবন্ধকের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এছাড়া আপনি জন্ম সংক্রান্ত তথ্য-ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে,গ্রাম পুলিশের কাছে,পৌরসভার কাউন্সিলর কাছে,স্বাস্থ্য কর্মী কিংবঅ পরিবার কল্যান কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন। এছাড়া জেলখানায় থাকলে জেল সুপারের কাঋে হস্তান্তর করতে পারবেন।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই

জন্ম নিবন্ধন যদি অনলাইনে না থাকে তাহলে সেটির কোনো মূল্য থাকে না। আপনার জন্ম নিবন্ধটি অনলাইনে রয়েছে কি-না তা যাচাই করতে প্রথমে বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এখানে ক্লিক করুন

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য অবশ্যই আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি ১৭ সংখ্যার হতে হবে। প্রথমে 1 বক্সে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি বসিয়ে নিবেন।

তারপর 2 বক্সে জন্ম নিবন্ধেনে থাকা জন্ম তারিখটি বসিয়ে নিবেন। এক্ষেত্রে প্রথমে জন্ম সাল তারপর – তারপর জন্ম মাস – তারপর জন্ম তারিখ। যেমনঃ 2000-12-30

তারপর 3 বক্সের উপরে একটি অংক দেওয়া থাকবে, অংকটির সঠিক উত্তর বক্সে বসিয়ে নিবেন।

আপনার প্রদত্ত তথ্য সঠিক এবং জন্ম নিবন্ধনটি অনলাইন সার্ভারে থাকলে আপনার সকল তথ্য পেয়ে যাবেন।

এখানে আপনি একটি QR কোড পাবেন যেটিকে পরবর্তী যেকোনো সময় স্ক্যানিং করে আপনার জন্ম নিবন্ধন কার্ডটি পেতে পারেন।

যেহেতু জন্ম নিবন্ধন প্রতিটি ব্যাক্তির প্রাথমিক পরিচয়পত্র এবং এটির উপর ভিত্তি করে পরবর্তী অন্যান্য পরিচয়পত্র তৈরি হয়ে থাকে সুতরাং এটিতে কোনোরকম অবহেলা করা একদমই উচিত নয়। সুতরাং এখনই যাচাই করে নিশ্চিত হোন আপনার জন্ম নিবন্ধনটি অনলাইন কি-না |

Bednet steunen 2023