free hit counter
বাংলাদেশ

ছেলে-বউয়ের নির্যাতনে বাড়ি ছাড়া মর্জিনা বেওয়া 

জমি লিখে না দেওয়ায় নির্যাতন করে মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে মশিউর রহমান ও তার স্ত্রী শাম্মী আকতারের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার মর্জিনা বেওয়া তার ছেলে ও বউয়ের ভয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এ কাজের প্রতিবাদ করায় ছেলের বউ মিথ্যা মামলা দিয়ে মর্জিনা বেওয়া ও তার তিন মেয়েকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

বৃদ্ধা মায়ের অভিযোগ, ছেলে ও ছেলের বউ তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধি, থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও প্রতিকার মেলেনি বলে জানান তিনি। 

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তরফ আল গ্রামের। মর্জিনা বেওয়া ওই গ্রামের মৃত ইউনুস আলী সরকারের স্ত্রী। ৯ বছর আগে মারা যাওয়া ইউনুস আলীর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।  

বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধিকে মর্জিনা বেওয়া বলেন, স্বামীর রেখে যাওয়া বসতবাড়িতে দুই ছেলের সঙ্গে বসবাস করতাম। এরপর দুই ছেলে ও স্ত্রী মিলে নানা কারণে নির্যাতন চালাতো। পরবর্তীতে তারা জমি লিখে না দেওয়ায় মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। বসতবাড়ি লিখে দিতে ছোট ছেলে মশিউর ও তার স্ত্রী শাম্মী আকতার এরপরেও চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বসতভিটার পাকাবাড়িসহ ৮ শতাংশ জমি দুই ছেলেকে এবং ফাঁকা ৮ শতাংশ জমি মর্জিনাসহ তিন মেয়েকে দেওয়ার সিন্ধান্ত হয় । 

ওই জমিতে বসবাসের জন্য টিনশেডের ঘর তোলা হলেও তাতে বেশি দিন থাকা হয়নি মর্জিনার। সম্পদের লোভে মশিউর ও তার স্ত্রী ওই ঘরের তালা ভেঙে সমস্ত আবসবাপত্রসহ ঘরটি ভাঙচুর করে। 

বৃদ্ধা মর্জিনা বেওয়া আরও বলেন, আমাকে সব সময় ওরা (ছেলে ও ছেলের বউ) মারপিট করে। আমাকে দেখলেই তারা বাঁশ-লাঠি কখনও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। প্রাণভয়ে মেয়েদের বাড়ি এবং আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আমার কেটে গেছে তিন বছর। সর্বশেষ গত ১৮ জুন ছেলে-ছেলের বউ আমার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও ভাঙচুর করে ও ঘরটিসহ জমি দখলের চেষ্টা করে। কেউ বাধা দিতে এলেও তাকে গালিগালাজ ও হত্যার ভয় দেখায়। পুলিশকে জানালেও তারা কোনও সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমানসহ একাধিক নারী ও পুরুষের অভিযোগ, ছেলে ও ছেলের বউয়ের নির্যাতনের ঘটনায় তিন বছর ধরে বাড়ি ছাড়া বৃদ্ধা মর্জিনা। প্রতিকার চেয়ে অনেকের দ্বারে-দ্বারে ঘুরছেন তিনি। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলেই ছেলে এবং তার বউ গ্রামের লোকজনকে গালিগালাজসহ মামলার জড়ানোর ভয়ভীতি দেখায়। দিনদিন তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ফলে এলাকার শান্তি নষ্ট হচ্ছে।

অভিযোগে বিষয়ে জানতে বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত মশিউর রহমান ও তার স্ত্রী শাম্মী আকতারকে। তবে মুঠোফোনে কথা হলে মশিউরের স্ত্রী শাম্মী আকতার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমাকে মারধর করাসহ মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন শাশুড়ি। শাশুড়িকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া এবং মামলা দিয়ে হয়রানির কোনও ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, এই ঘটনায় বৃদ্ধার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

তবে অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে সাদুল্লাপুর থানার ওসি প্রদীপ কুমার বলেন, এরআগে ছেলের বউকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মূলত অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় পুলিশের যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে। নতুন কোনও অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। 

Source link