free hit counter
বাংলাদেশ

​​​​​​​ছুটির দিনে পদ্মা সেতু দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

আর মাত্র ২১ দিন বাকি। ২৫ জুন খুলে দেওয়া হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সেতু উদ্বোধনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই পদ্মাপাড়ে ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মা সেতু একনজর দেখার জন্য নদীর পাড়ে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

সেতুর সৌন্দর্য দেখতে শুক্রবার (৩ জুন) ছুটির দিনে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় পদ্মাপাড়ে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে নাওডোবা। পদ্মা সেতুকে কাছ থেকে দেখেছেন, ছবি তুলে আনন্দে ভাসছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাজিরার নাওডোবা ইউনিয়নের নাওডোবা গ্রামের পদ্মা নদীর পাড়ঘেঁষে বয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধ দিয়ে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা শ্রেণিপেশার মানুষ পায়ে হেঁটে সেতু দেখতে গেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও এসেছেন। কেউ এসেছেন সপরিবারে। দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহনে এসেছেন। এ সময় অনেকে সেতুকে ফ্রেমবন্দি করে সেলফি তুলেছেন। তবে সেতুর নিরাপত্তার স্বার্থে কাছে যেতে পারছেন না তারা। দূর থেকে দেখে ফিরছেন দর্শনার্থীরা। কেউ আবার পদ্মা সেতুর ছবি মোবাইলে ধারণ করেছেন। পদ্মাপাড় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন কেউ কেউ। ট্রলারে পদ্মা সেতুর একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তেও যেতে দেখা গেছে অনেক দর্শনার্থীকে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সংযোগ ঘটাবে পদ্মা সেতু। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি চালু হলে অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়াবে ১.৫ শতাংশ। এতে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে। দারিদ্র্য বিমোচন হবে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। সেতু নির্মাণে মোট খরচ হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। সেতু চালু হলে ঢাকাসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা। প্রবহমান প্রমত্তা পদ্মার ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলবে যানবাহন ও ট্রেন। ২৫ জুন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এই সেতু।

সেতুর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা বলছেন, পদ্মা সেতু দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসছেন। সেতু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেতুর কাছে দর্শনার্থীদের যেতে দিচ্ছি না আমরা। 

মো. বাপ্পী নামের এক দর্শনার্থী জানান, তার বাড়ি ফরিদপুরে। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার সংবাদ পেয়ে বন্ধুদের নিয়ে দুপুরে দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন পর সেতু দিয়ে বাড়ি থেকে ঢাকা যাবো, আবার আসবো।’

পদ্মা সেতু দেখতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, এর আগে কেবল সংবাদপত্রের পাতায় আর টেলিভিশনে পদ্মা সেতুর সংবাদ দেখেছেন। বাস্তবে সেতুটি এক নজর দেখতে চলে এসেছেন নাওডোবা এলাকায়।

পদ্মা সেতুকে কাছ থেকে দেখেছেন, ছবি তুলে আনন্দে ভাসছেন তারা

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, পদ্মা সেতু একসময় স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে। সেতুটি নিজ চোখে দেখার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হয়নি এতদিন। তাই শুক্রবার ছয় বন্ধু চলে এসেছেন পদ্মার পাড়ে। তারা এখন শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় গিয়ে ভর্তি এবং চাকরির পরীক্ষা দিয়ে আবার ফিরতে পারবেন।  

কয়েক শিক্ষার্থী জানান, প্রয়োজনে সকালে বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে ক্লাস করবো, আবার রাতে ফিরবো। 

শরীয়তপুরের বাসিন্দা মো. সফিক আহমেদ বলেন, ‌‘পদ্মা সেতু দেখতে প্রতিদিন বরিশাল, ফরিদপুর, খুলনা ও মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসছেন। ছুটির দিনে লোক বেশি থাকে। এত মানুষ এর আগে কখনও দেখা যায়নি এই এলাকায়। মানুষের সমাগমে ঈদের মতো মনে হচ্ছে। আসলে আমরা সবাই আনন্দিত।’

দ্বিতল পদ্মা সেতুর ওপরের তলায় থাকছে চার লেনের সড়ক। নিচের অংশে চলবে ট্রেন। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত সেতুটি নির্মাণ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও সিনোহাইড্রো করপোরেশন। সেতুর দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 

নাওডোবা গ্রামের পদ্মা নদীর পাড়ে সেতু দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর চার পাশে সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা আছে। এই নিরাপত্তা সেতু উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত থাকবে। মূল সেতুর ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই ৯৯.৯৯ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে ল্যাম্পপোস্টের লাইটিং পরীক্ষা করে দেখা হবে। ১৫ জুন সেতুতে পুরোপুরি আলো জ্বলবে। আমরা সেভাবেই কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি।’

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Source link