free hit counter
বাংলাদেশ

‘ছিলাম ভূমিহীন বন্যায় হলাম গৃহহীন’

‘সর্বনাশা বন্যা আমাদের কিছু রাখেনি। ঘরদোর সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আগে ছিলাম ভূমিহীন, এবার বন্যায় হলাম গৃহহীন। এখন আমাদের আর হারানোর কিছু নেই।’

কথাগুলো বলছিলেন বন্যাকবলিত সুনামগঞ্চ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সাদকপুর গ্রামের নূর জাহান বেগম। বানের পানিতে তার মতো গ্রামের শতাধিক মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছেন। এখন খোলা আকাশের নিচে, কেউবা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কোনোরকমে বেঁচে আছেন।

একই গ্রামের আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘বানের পানি বেড়ে যাওয়ার পর কোনোমতে জান নিয়ে ঘর থেকে বের হইছি। কোনও মালামাল নিয়ে বের করতে পারিনি। এখন ঘরছাড়া হয়ে মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।’

হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘দেখার হাওরের ঢেউ ঝড়ো বাতাসে একের পর এক ঘর ভেঙে মাটির সাথে মিশে গেছে। চালের টিন বাঁশের বেড়া কাগজের মতো টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলেছে। এখন মাটি ছাড়া আর কিছু নেই আমাদের।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘টাকা নেই পয়সা নেই খাবার নেই, ঘর বানাইমু কী দিয়ে? আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। কীভাবে বেঁচে থাকবো জানি না।’

সাদকপুর গ্রামের জাকির হোসেন, আফতাব উদ্দিন, বাচ্চু মিয়া, নূর জাহান ও কামাল উদ্দিনসহ ১৯ জনের বসতঘর ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বন্যা। বন্যার আগেও এই গ্রামের শ্রমজীবী বর্গাচাষিদের সাজানো সংসার ছিল। এসব পরিবারের দেড় শতাধিক মানুষ এখন অন্যের বাড়িতে ভাঙা ঘরে বসবাস করছেন। 

মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, ‘সাদকপুর গ্রামের ভূমিহীন বর্গাচাষি শ্রমজীবী মানুষ এই বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। সরকারিভাবে ঘর মেরামত করে না দিলে তারা ভিটেমাটিতে বসত করতে পারবেন না।’ 

‘ছিলাম ভূমিহীন বন্যায় হলাম গৃহহীন’

সুনামগঞ্জের কয়েক হাজার নিম্ন আয়ের মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ১১টি উপজেলার চার হাজার ৭৪৭টি বসতঘর সম্পূর্ণ ও ৪০ হাজার ৫৪১টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখন ত্রাণ দেওয়ার কাজ চলছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতা করা হবে।’

Source link