free hit counter
বাংলাদেশ

ছাত্রের আঘাতে নিহত শিক্ষক উৎপলের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী আজ

আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক ছাত্রের আঘাতে নিহত শিক্ষক উৎপল কুমারের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুন)। তিন বছর আগে এই দিনে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বিউটি রানী নন্দীর সঙ্গে। করোনাকালে বিয়ের অনুষ্ঠানও ভালোভাবে করতে পারেননি এই শিক্ষক। এবার করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করে ধুমধাম করে তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু বখাটে ছাত্রের আঘাতে সেই পরিবারে এখন শোকের মাতম। এ ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

নিহত উৎপল কুমার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এলংজানী গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। গ্রামের বাড়িতে কথা হয় তার স্ত্রী বিউটি রানী নন্দীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগেও আগেও আমাদের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করার কথা বলেছিলেন উৎপল। কিন্তু তা আর হলো না।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) ৩০ জুন আমাদের বিয়ের ৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০১৯ সালে ৩০ জুন আমাদের বিয়ে হয়েছিল। করোনার কারণে বড় অনুষ্ঠান হয়নি। এবার আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করে ঘটা করে বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করতে চেয়েছিলেন আমার স্বামী উৎপল। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ১০ বছর ধরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করছিলেন। একই স্কুলের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্র ওই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির ছাত্র ও আশুলিয়ার চিত্রাশাইল এলাকার বাসিন্দা।

স্কুলের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসানসহ একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, গত শনিবার (২৬ জুন) দুপুরে স্কুলে ছাত্রীদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। শিক্ষক উৎপল কুমার মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলেন। স্কুলের দোতলা থেকে খেলা দেখছিল ওই ছাত্র। হঠাৎ দোতলা থেকে নেমে মাঠ থেকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষকের মাথায় আঘাত করে। সেইসঙ্গে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

উৎপলের গ্রামের বাড়িতে কথা হয় তার বড় ভাই অসীম কুমারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই তিন বছর আগে বিয়ে করেছে। করোনার কারণে তেমন কোনও অনুষ্ঠান করা হয়নি। এবার ছোট ভাই উৎপল আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করে বড় করে অনুষ্ঠান করে বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করবে বলে আমাকে বলেছিল। এখন আত্মীয়-স্বজন সবাই আছে, কিন্তু আমার ভাই আর নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ষড়যন্ত্র করে আমার ছোট ভাইকে হত্যা করেছে, তার স্বপ্ন নষ্ট করেছে; তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

উৎপলের শাশুড়ি ছবি রানী নন্দী বলেন, তিন বছর আগে উৎপলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এরমধ্যে বড় করে কোনও অনুষ্ঠান করা হয়নি। এবার তাদের বিবাহবার্ষিকীতে সবাইকে দাওয়াত দিয়ে অনুষ্ঠান করার কথা ছিল; কিন্তু তা আর হলো না। যারা আমার মেয়েকে বিধবা করেছে, আমার মেয়ের জামাই উৎপলকে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

Source link