free hit counter
বাংলাদেশ

ছবিতে নিজ দেশে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গা শিশুদের

কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুরা ছবি এঁকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে ছবিতে তারা জানিয়েছে দেশে ফেরার আকুতির কথা। উখিয়ায় তিনটি ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শিশুদের নিয়ে ‘রোহিঙ্গা শিশুদের চোখে জীবন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। 

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ৮ এপিবিএন অধিনায়ক মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, খন্দকার আশফাকুজ্জামান ও মো. কামরান হোসেন প্রমুখ।  

সরেজমিনে দেখা যায়, উখিয়া ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্প চত্ত্বরে তিনটি ক্যাম্পের ৫০ জন রোহিঙ্গা শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের অভিভাবকসহ বিভিন্ন ক্যাম্পের মাঝিসহ সাধারণ রোহিঙ্গারা ভিড় করেন। 

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ক্যাম্প-১১ এর এ-৩ ব্লকের মোনাফ খান বলেন, আমরা মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছি। কীভাবে সে দেশের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের গণহত্যাসহ নির্মম নির্যাতন চালিয়ে আগুনে ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে সহায় সম্বল লুট করেছে। এসব অবস্থা আমি ছবিতে এঁকে প্রকাশ করেছি। এছাড়া নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আমরা যে আশ্রয় পেয়েছি সে অবস্থাও ছবিতে প্রকাশ করেছি। আমরা আমাদের দেশে ফিরে গিয়ে এভাবে ছবি আঁকতে চাই। 

চিত্রাঙ্কনে অংশ নেওয়া একই ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শিশু হাফসা বিবি বলেন, আমি আমার কল্পনা ছবির মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। ক্যাম্পে বসবাস করা পরিবেশসহ নিজেদের ঘর এঁকেছি। 

 ছবির মধ্য দিয়ে শিশুশ্রম বন্ধের দাবি জানায় ক্যাম্প-১২ এর জে-১০ ব্লকের রোহিঙ্গা শিশু মোহাম্মদ হারেছ। সে তার চিত্রের মাধ্যমে শিশুশ্রম বন্ধ করে স্কুলে লেখাপড়ার দিকে ধাবিত হওয়ার কথা প্রকাশ করেন চিত্রে। 

 এ ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ৮-এপিবিএনের অধিনায়ক মো.সিহাব কায়সার খান বলেন, রোহিঙ্গারা নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে যাতে ট্রমার মধ্যে না থাকে, সে চিন্তা থেকে মানবিক দিক বিবেচনা করে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। রোহিঙ্গা শিশুরা চিত্রের মাধ্যমে তাদের স্বদেশের স্মৃতি তুলে ধরেছে। এতে চিত্র চিত্রাংকন বিজয়ী শিশুদের পুরস্কৃত করা হয়। ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ৮ এপিবিএনের পক্ষ থেকে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। 

Source link