free hit counter
বাংলাদেশ

চালু হচ্ছে স্বপ্নের সেতু, পদ্মা পাড়ে আনন্দের বন্যা

আগামী ২৫ জুন চালু হচ্ছে পদ্মা সেতু। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগ মুহূর্তে পদ্মা নদী তীরবর্তী মুন্সীগঞ্জ জেলায় বইছে আনন্দের বন্যা। সেতু নিয়ে উচ্ছ্বসিত পদ্মা পাড়ের মানুষ। 

বেসরকারি চাকরিজীবী আসাদুল হক মিরাজ বলেন, ‘আমি এখন ঢাকায় বাসা ভাড়া করে থাকছি। ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে, প্রতিদিন বাড়ি থেকে ঢাকায় এসে অফিস করতে পারবো। এতে আমার সময় বাঁচবে।’

গাজীপুর থেকে পদ্মা পাড়ে ঘুরতে আসা নাদিম মিয়া বলেন, ‌‘পদ্মা সেতু দেখে মনটা জুড়িয়ে যায়। কাজের ফাঁকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেড়ানোর মজাই আলাদা। আমরা শুনেছি আগামী জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমরা যেন সুন্দরভাবে উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারি।’

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা কাপড় ব্যবসায়ী উপা নন্দ শমা বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হলে আমরা খুব দ্রুত ভারত থেকে মালামাল আমদানি করতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। তার সাহসিকতায় আজ নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু হয়েছে।’


 
মুন্সীগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুজন হায়দার জনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তার কারণে স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু জাতির জন্য গর্বের। জাতিকে গর্বিত  করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের (পানির অংশ) সেতুটি চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে সড়কপথে রাজধানীর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোতে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।

পদ্মা সেতু দেখতে নদী পাড় এলাকায় ঘুরতে আসছেন অনেকে

এদিকে সেতুর অবশিষ্ট কাজের মধ্যে রোড মার্কিং ও সেতুকে আলোকিত করতে বসানো ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্টে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ চলছে। শুরু হয়েছে রেলিং বসানোর কাজ।

প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, চলতি মাসে শেষ হবে রোড মার্কিংয়ের কাজ। আর পহেলা জুনে সেতু আলোকিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগোচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে নির্ধারিত সময়েই জ্বলে উঠবে বাতিগুলো।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। সেতু নির্মাণে মোট খরচ করা হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা।

Source link