Image default
বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন দৃশ্যমান, উদ্বোধন ১২ নভেম্বর

অবশেষে দৃশ্যমান হলো চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন। সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া অংশে ৫০ মিটার রেললাইন বসানোর মধ্যে দিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত এই রেললাইন দৃশ্যমান হলো। আগামী ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই রেললাইন উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে চলছে প্রস্তুতিও।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান। রবিবার কক্সবাজার থেকে চকরিয়া পর্যন্ত আমি ট্রলিতে করে এসেছি। সোমবার পুরো রেললাইন বসানোর পর চকরিয়া থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ট্রলিতে করে প্রত্যক্ষ করেছি। আসার সময় যেসব ত্রুটি চোখে পড়েছে তা দ্রুত শেষ করার জন্য বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ রেললাইন উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এর আগে কয়েকবার পরীক্ষামূলক ট্রেন চালিয়ে আমরা দেখবো কোথাও কোনও ত্রুটি আছে কিনা। পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি ৯০ শতাংশ। কক্সবাজারে নির্মাণাধীন আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের কাজ চলতি মাসেই পুরোপুরি শেষ হবে। স্টেশন ও সড়কের কাজ যেগুলো বাকি আছে সেগুলো কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।’

রবিবার (৮ অক্টোবর) রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ১২ নভেম্বর সময় দিয়েছেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশরীরে উপস্থিত থেকে এ পথে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করবেন।’

এদিকে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প সারা দেশের মানুষের স্বপ্নের প্রকল্প। আগামী ১৫ থেকে ২০ অক্টোবর পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল করবে। নভেম্বরের মধ্যে এ রুটে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল করবে।’

এই সেতু দিয়ে চলবে ট্রেন

পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. নেজাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১ আগস্ট থেকে কালুরঘাট ব্রিজের সংস্কার কাজ শুরু হয়। ৭ আগস্ট থেকে ব্রিজ দিয়ে ট্রেন এবং যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগেই ৬ আগস্ট ছয়টি নতুন বগি এবং একটি দুই হাজার ২০০ সিরিজের ইঞ্জিন আনা হয়। যেগুলো রাখা আছে পটিয়া রেলওয়ে স্টেশনের সামনে। কোরিয়া থেকে আনা এসব বগিতে ৬০ জন করে যাত্রী বসতে পারবেন।’

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের আওতায় ৩৯টি বড় সেতু, ২২৩টি ছোট সেতু ও কালভার্ট, বিভিন্ন শ্রেণির ৯৬টি লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হয়েছে। হাতি চলাচলের জন্য রয়েছে আন্ডারপাস। নির্মাণ করা হয়েছে ৯টি স্টেশন। স্টেশনগুলো হলো- দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজার।

পুরোদমে চলছে রেললাইন বসানোর কাজ

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার এবং রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার। ১০০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে প্রথমে ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

এতে অর্থায়ন করেছে এশিয়ান ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার। এটি সরকারের অগ্রাধিকার (ফাস্ট ট্র্যাক) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ। ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৯২ কিলোমিটার অংশে রেললাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।

চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড পৃথক দুই ভাগে কাজটি করছে।

Source link

Related posts

কুড়িগ্রাম আসছেন ভুটানের রাজা, সমৃদ্ধির হাতছানি

News Desk

বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি কাজী নাবিলের শ্রদ্ধা

News Desk

চারঘাটে ৬৬৭ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

News Desk

Leave a Comment