free hit counter
বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে ১৫ বছরে পাহাড়ধসে ২৪৭ মৃত্যু

গত ১৫ বছরে চট্টগ্রাম মহানগর এবং আশপাশের এলাকায় পাহাড়ধসে ২৪৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এত প্রাণহানির পরও বন্ধ হচ্ছে না চট্টগ্রামে পাহাড়ে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন ও বসবাস। বরং প্রতি বছরই বাড়ছে দখলদারদের সংখ্যা। এখনও পাহাড়ের ঢালে অথবা পাদদেশে বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে হাজার হাজার বসতি রয়েছে। যেখানে অসংখ্য নিম্নআয়ের মানুষের বসবাস।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পাহাড় দখলকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় না আনায় দখল ও বসতি বাড়ছে। সেইসঙ্গে পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০০৭ সালের ১১ জুন। ওই বছর ২৪ ঘণ্টায় ৪২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ওই বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সেনানিবাস এলাকা, লেডিস ক্লাব, শহরীর কুসুমবাগ, কাছিয়াঘোনা, ওয়ার্কশপঘোনা, মতিঝরনা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ প্রায় সাত এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ভোরবেলা অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ১২৭ জনের মৃত্যু হয়।

পাহাড়ধসে একসঙ্গে এত প্রাণহানির পরও বন্ধ হয়নি পাহাড় কাটা, দখল ও বসতি স্থাপনা। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাহাড়ধস এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আরও ১২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সবমিলে গত ১৫ বছরে নগরে ও আশপাশে পাহাড়ধসে ২৪৭ জন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ পাহাড়ধসে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছে আরও চার জন। শুক্রবার (১৭ জুন) রাত ২টায় এবং শনিবার (১৮ জুন) ভোর ৪টায় নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ১ নম্বর ঝিল ও ফয়েজ লেক সিটি আবাসিক এলাকায় এ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও পাঁচ জন আহত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের লালখানবাজার মতিঝরনা এলাকায় পাহাড়ধসে চার পরিবারের ১২ জনের মৃত্যু হয়। ২০১১ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকার বাটালি হিল পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

২০১২ সালের ২৬-২৭ জুন পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালে মতিঝরনায় দেয়ালধসে দুই জন মারা যান। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই বায়েজিদ এলাকার আমিন কলোনিতে পাহাড়ধসে মারা যান তিন জন, একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার মাঝিরঘোনা এলাকায় মারা যান মা-মেয়ে। 

২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর নগরীর আকবরশাহ থানাধীন ফিরোজশাহ কলোনিতে পাহাড়ধসে মারা যান চার জন। ২০১৯ সালে কুসুমবাগ আবাসিক এলাকা পাহাড়ধসে এক শিশু প্রাণ হারায়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় আছে। এর মধ্যে ১৭টি অতিঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৮৩৫ পরিবার বসবাস করে। ১৭ পাহাড়ের মধ্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০ পাহাড়ে অবৈধভাবে বাস করছে ৫৩১ পরিবার। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন সাত পাহাড়ে বাস করছে ৩০৪ পরিবার। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।

এত প্রাণহানির পরও বন্ধ হচ্ছে না চট্টগ্রামে পাহাড়ে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন ও বসবাস

তবে জেলা প্রশাসনের তথ্যের সঙ্গে বাস্তবে অবৈধ দখল ও বসবাসকারীদের সংখ্যার মিল নেই বলে দাবি স্থানীয়দের। পাহাড় দখল করে এখানে হাজারো বসতি গড়ে উঠেছে। যেগুলোতে বিপজ্জনকভাবে বসবাস করছে দরিদ্র পরিবারগুলো।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সজীব কুমার চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ও শনিবার ভোরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন শুক্রবার সকাল থেকে পাহাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হয়েছিল। এখন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন টিম নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করছে। জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি তদারকি করছেন।’

জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ অভিযান বছরজুড়েই চলে। এরপরও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে তারা। এবার আমরা কঠোর হবো। এসব বসতির গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবো।’

 

Source link