free hit counter
বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। সোমবার (১১ জুলাই) নগরী ও জেলার সবগুলো বিনোদন কেন্দ্রে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ছিল লোকে লোকারণ্য। 

এছাড়া চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, নেভাল সমুদ্র সৈকত, আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকত, ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, কাজির দেউড়ি শিশু পার্ক, আগ্রাবাদ কর্ণফুলী শিশু পার্কে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে আসা মুনতাসির উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তেমন কোথাও যাওয়া হয়ে ওঠে না। ঈদের বন্ধে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ছুটে এসেছি। বেশ ভালোই লেগেছে। সময় কাটানোর জন্য অনেক ভালো স্থান।’

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. ইস্রাফিল মজুমদার জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় ঈদের ছুটিতে এবার ২৫-৩০ হাজার দর্শনার্থী এসেছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সতর্ক আছি। সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। সিএমপির টিমও আমাদের সহায়তা করেছে। মায়ের সঙ্গে বেড়াতে আসা তিনটি বাচ্চা হারিয়ে গিয়েছিল। তাদের খুঁজে দিয়েছি। তবে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত পারকি সমুদ্র সৈকতেও বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ভিড় করে। সোমবার সকাল থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসতে থাকেন। এখানকার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ছিল স্থানীয় থানা পুলিশ।   

সোমবার নগরীর চিড়িয়াখানায় ছিল সব বয়সী মানুষের ভিড়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করে চিড়িয়াখানায়। এখানে নানা প্রজাতির অসংখ্য পশু-পাখি এবং বাঘ সিংহ, হরিণ, সাপ, কুমিড়, জেব্রা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। তার ওপর এখানে পাহাড়ের ঢালে নির্মিত সিঁড়ি বিনোদনপ্রেমীদের কাছে নতুন মাত্র যোগ করেছে। আছে শিশুদের জন্য দোলনাসহ বিভিন্ন রাইড। মাত্র ৫০ টাকা প্রবেশ ফি দিয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ থাকায় বরাবরের মতো এবারও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চিড়িয়াখানায়।

চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ও ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদের প্রথম দিনের চেয়ে সোমবার দর্শনার্থীদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। একদিনেই প্রায় ১৬ হাজার দর্শনার্থী টিকিট কেটে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেছে। আরও কয়দিন ভিড় থাকবে। চট্টগ্রামের একমাত্র চিড়িয়াখানা হলেও এখানে বিভিন্ন ধরনের পশু-পাখি আছে। আছে বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ। আছে মায়া হরিণসহ এক ঝাক অজগর সাপ। বানরের দুষ্টুমিও আনন্দ দেয় শিশুদের। এখানে শুধু শিশু নয়, সব বয়সী লোকজনের আজ ভিড় ছিল।’

ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও সি-ওয়াল্ডেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। সোমবার সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। এখানে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা লেকে নৌকা নিয়ে ভ্রমণ, কেউ সুবিশাল সুইমিং পুলে নেমে পানিতে গা-ভাসাতে দেখা গেছে। সুইমিং পুলে নেমে অনেকেই গানের তালে তালে নাচতেও দেখা যায়।  

কনকর্ড ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার আবহাওয়া ভালো হওয়ায় সকাল থেকে ৬ হাজার দর্শনার্থী পার্কে এসেছে। আমরা যা আশা করেছিলাম তার চেয়েও বেশি দর্শনার্থী এসেছে একদিনে। এখানে থাকা সবগুলো বোট সচল রয়েছে। এ কারণে লেকে ভ্রমণেও কোনও সমস্যা হয়নি। এখানে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। আশা করছি আরও কয়দিন থাকবে ঈদের আমেজ।’

Source link