free hit counter
বাংলাদেশ

গুদামে পচছে পেঁয়াজ

ক্রেতা সংকটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছেন না দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। ইতোমধ্যে গুদামে মজুত করা পেঁয়াজে পচন ধরছে, গজিয়েছে গাছ। বাধ্য হয়ে এসব পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

পেঁয়াজ কিনতে আসা সবুজ হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন আগে পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ১৪-১৫ টাকা। কিন্তু বর্তমানে দাম বেড়ে ২৫-২৬ টাকা কেজি হয়েছে। ভালো মানের পেঁয়াজের দাম আরও বেশি।’

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মনিরুল আলম বলেন, ‘আমদানি বন্ধের কারণে ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর কিছুটা চাপ পড়েছে। ফলে বর্তমানে ছোট আকারের পেঁয়াজ ২৪ থেকে ২৬ টাকা এবং বড় আকারেরটা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এ ভারতীয় পেঁয়াজের তেমন বিক্রি নেই বললেই চলে।’ 

গুদামে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বাজারে ভালো পেঁয়াজের দাম বেশি, এ কারণে গুদামে কিনতে এসেছি। গুদামের অনেক পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার মধ্য থেকে কিছু কিছু বাছাই করে কিনছি। এগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করবো।’

পেঁয়াজ আমদানিকারক শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘সরকারি অনুমতি না থাকায় ৫ মে থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে মে দিবস, ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ১ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ ছি। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আগের অনুমতি পাওয়া এলসির মাধ্যমে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করেন আমদানিকারকরা। কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা না থাকায় মোকামগুলোতে তেমন চাহিদা নেই। বিক্রি না হওয়ায় গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজের মজুত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে গরম আবার কখনও বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজে পচন ধরেছে, গজিয়েছে গাছ। বাছাই করে ভালো মানের পেঁয়াজ পাইকারিতে ২৫-২৬ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অল্প খারাপগুলো ১০-১২ টাকা আর বেশি খারাপগুলো ৪-৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। বাড়তি দামে আমদানি করে কম দামে বিক্রি করায় লোকসান গুণতে হচ্ছে।’

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ ৩০ এপ্রিল ৬৮টি ট্রাকে এক হাজার ৯০২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকে আমদানি বন্ধ রয়েছে। আইপি না থাকায় আমদানি করছেন না ব্যবসায়ীরা।

Source link