Image default
বাংলাদেশ

কেএনএফের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, কেঁদে কেঁদে স্ত্রী বললেন আমার ৩ সন্তানকে কে দেখবে?

বান্দরবানের রুমায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) গুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তার নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি করপোরাল পদে কর্মরত ছিলেন।

শুক্রবার বিকালে রুমা উপজেলার বড়থলি পাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন পলি পাংশা পাড়ার মধ্যবর্তী স্থানের যাত্রীছাউনি এলাকায় গুলিতে নিহত হন। শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মরদেহ গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এশার নামাজের পর জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।

রফিকুল ইসলাম (৩৭) নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের পশ্চিম সোশালিয়া গ্রামের আমজাদ আলী কায়তার বাড়ির মফিজ উদ্দীনের ছেলে। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ স্বজনরা।

সন্ধ্যায় রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, কাপড়ে মুখ ঢেকে কাঁদছেন স্ত্রী আমেনা বেগম। পাশেই অপলক দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলছে অবুঝ তিন শিশু। মা কেন কান্না করছে, তা এখনও বোঝার বয়স হয়নি তাফহীম, তাহমীদ ও ফারহানের। বাকরুদ্ধ হয়ে ঘরের মধ্যে বিছানায় শুয়ে কাঁদছেন তাদের দাদি হায়াতুন্নেছা। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা ছিল না তাদের। সবার চোখে পানি ঝরছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দেশ মাতৃকার টানে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন রফিকুল ইসলাম। শুক্রবার বিকালে রুমা উপজেলার পলি পাংশা পাড়ার যাত্রীছাউনি এলাকায় কেএনএফের সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন রফিকুল। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার তার পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে মরদেহ গ্রহণ করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এশার নামাজের পর জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়

নিহতের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ‘রোজার আগে সবশেষ বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালেও কথা হয়েছে। বলেছেন, ডিউটিতে আছেন। রাতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। আজ সকালে আমার শ্বশুর গিয়ে মরদেহ নিয়ে এসেছেন। আমার তিন ছেলে। বড় ছেলে প্রাইমারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সবাই অবুঝ শিশু। আমার পরিবারে আর কেউ উপার্জনক্ষম নেই। তিন ছেলেকে নিয়ে আমি এখন কীভাবে চলবো? আমাদের দেখার আর কেউ রইলো না।’ বলে কান্না শুরু করেন আমেনা। 

বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন রফিকুল ইসলামের বোন মফিদা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই নিজের সংসারের পাশাপাশি আমাদেরও খেয়াল রাখতো। আমরা এখন কি নিয়ে বাঁচবো? আমার ভাতিজাদের কে দেখবে? সবকিছু শেষ হয়ে গেলো।’

কাঁদছেন সেনাসদস্য রফিকুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা বেগম, পাশে সন্তান ও মা

রফিকুলের আরেক বোন শাহিন আক্তার বলেন, ‘আমার সোনার টুকরো ভাইকে হারিয়ে ফেলেছি। ও ভাই, কেন আমাদের ছেড়ে চলে গেলি। আমাদের এখন কে দেখবে? কে সংসার চালাবে? কে আমাদের বৃদ্ধা মায়ের ওষুধ খরচ দেবে?’

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে শুক্রবার রাতে আমাকে ফোন করে তার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য নেওয়া হয়েছিল। পরে স্বজনদের কাছ থেকে মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হয়েছি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার পরিবারের পাশে থাকবে বলে আশা করছি।’

Source link

Related posts

পি কে হালদারের গ্রামে রয়েছে শুধু টিনশেড ঘর 

News Desk

ভালোবাসার শেষ পরিণতি খুন

News Desk

করোনায় পেছাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা

News Desk

Leave a Comment