free hit counter
বাংলাদেশ

কাউন্টার ও অনলাইনে ট্রেনের টিকিট নেই

ঈদের ছুটি শেষে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে কাউন্টার ও অনলাইনে টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ থেকে প্রতিদিন ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায় সাতটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন। ট্রেনগুলো আবার ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ফিরে আসে। 

এর মধ্যে ঢাকাগামী ময়মনসিংহ থেকে তিস্তা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের জন্য ১৫২, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে ৬২, হাওর এক্সপ্রেসে ৪৪, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে ৪০, যমুনা এক্সপ্রেসে ১০৪, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে ১০০ এবং চট্টগ্রামের বিজয় এক্সপ্রেসে ২৪৮ আসন রয়েছে। হিসাবে সাতটি আন্তঃনগর ট্রেনে আসন রয়েছে ৭৫০টি।

করোনাকালীন সময়ের জন্য কাউন্টার থেকে যাত্রীদের সরাসরি ৩৭৫ এবং বাকি ৩৭৫টি টিকিট অনলাইনে কেনার ব্যবস্থা রেখেছে সরকার। পাঁচ দিন আগে থেকে টিকিট বিক্রি হয়।

যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টার এবং অনলাইনে কোথাও ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না। তবে ট্রেনের টিকিট অতিরিক্ত দামে কালোবাজারে পাওয়া যাচ্ছে। 

ময়মনসিংহ শহরের লোকমান আলী বলেন, ‘কাউন্টার থেকে সকাল ৮টায় ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আধাঘণ্টা বিক্রির পর কাউন্টারে আর টিকিট পাওয়া যায় না। বুকিং মাস্টার বলে দেন, টিকিট শেষ হয়ে গেছে।’

ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, ‘সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পর থেকে রেলওয়ের সার্ভারে ঢোকা যায় না। কোনোভাবে অনলাইনে টিকিট কাটতে পারি না। কিছুক্ষণ পর ঢুকে দেখি টিকিট শেষ। কীভাবে এত দ্রুত অনলাইনে টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে এসব টিকিট এটি রহস্যজনক। অথচ অনলাইনের টিকিট কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।’

কালোবাজারে টিকিট পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সংখ্যা খুবই কম। প্রতিদিন সকাল ৮টায় টিকিট ছাড়ার পরই কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রীরা নিয়ে যান। একজন ব্যক্তি আইডি কার্ড দেখিয়ে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট নিতে পারেন। টিকিট সংখ্যা কম হওয়ায় দ্রুত কাউন্টার থেকে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে অনলাইনের টিকিট যাত্রীরা পাচ্ছেন না এটি সত্য।’ 

তিনি বলেন, ‘টিকিট অনলাইনে ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কালোবাজারিরা মোবাইলে উন্নতমানের ডিভাইস ব্যবহার করে সার্ভারে ঢুকে। সেই সঙ্গে অন্যরা যাতে ওই সময়ে সার্ভারে ঢুকতে না পেরে সেই সিস্টেম তারা চালু করে দেয়। ওই সময়ে কালোবাজারিরা দ্রুত অনলাইনের সব টিকিট কেটে নেয়। ফলে সাধারণ যাত্রীরা ওই সময় সার্ভারে ঢুকতে পারে না, টিকিটও পায় না। পরে ওসব টিকিট কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করে তারা। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পরও এ ব্যাপারে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ 

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘ঈদ শেষে শনিবার থেকে কর্মস্থলে ফেরা ট্রেনযাত্রীর চাপ বেড়েছে। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ট্রেনে উঠতে পারেন সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রেলওয়ের কর্মীরা তৎপর রয়েছেন।’

ময়মনসিংহ রেলওয়ের জিআরপি থানার ওসি মামুন রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রেলওয়ে স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কালোবাজারির তেমন একটা সুযোগ নেই। তবে অনলাইনে যে টিকিট বিক্রি হয়, সেখান থেকে কিনে কালোবাজারিরা বেশি দামে বিক্রি করে। মাঝেমধ্যে জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন সে ব্যাপারে আমরা তৎপর রয়েছি।’

Source link