Image default
বাংলাদেশ

‘ওপরের নির্দেশে’ পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করেন ছাত্রদল নেতা

দলীয় আন্দোলনকে বেগবান করতে ‘ওপরের নির্দেশে’ পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনে যোগ দিয়ে পোশাক কারখানা, গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গাজীপুর ছাত্রদলের নেতা রিপন হোসেন ওরফে রিপন মাহমুদের (২৭) সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। সোমবার (৬ নভেম্বর) বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র পর্যালোচনা করে রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গ্রেফতার রিপন হোসেন ওরফে রিপন মাহমুদ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইছুটি গ্রামের সুরুজ আল মামুনের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। রিপন ও তার সহযোগীরা কালিয়াকৈরস্থ লিডা, ফর্টিস গার্মেন্টস এবং কোনাবাড়ী এলাকার এবিএম ফ্যাশন্স লিমিটেডে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মাহবুব আলম তার কার্যালয়ে কনফারেন্স কক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

পুলিশ কমিশনার মাহবুব আলম জানান, পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির নামে আন্দোলন চলাকালে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) গাজীপুর মহানগরসহ গাজীপুর জেলাধীন বিভিন্ন পোশাক কারখানা, পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা, হাসপাতাল, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বুধবার (১ নভেম্বর) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ, গাজীপুর জেলা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে নাশকতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্ত করা হয়। 

কমিশনার বলেন, ‘বিভিন্ন পোশাক কারখানার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় গাজীপুর জেলাধীন সফিপুরস্থ লিডা ও ফর্টিস গার্মেন্টস লিমিটেডের অভ্যন্তরে ঢুকে দুষ্কৃতকারীরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও দাহ্য পদার্থ ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে। কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে গাড়ি ভাঙচুরকারী ব্যক্তি ছাত্রদল নেতা রিপন হোসেন। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সভাপতি পদপ্রার্থী। ঘটনার পরপরই তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে যান এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। রিপন তার অন্যান্য সহযোগীসহ গত ৩০ অক্টোবর কোনাবাড়ী এলাকার এবিএম ফ্যাশনস লিমিটেডে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত। এ ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।’

গ্রেফতার ছাত্রদল নেতা রিপন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তিনিসহ তার দলীয় সহযোগীরা রাজনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দলীয় আন্দোলনকে বেগবান করতে এবং দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে কালিয়াকৈর এলাকার লিডা ও ফর্টিস গার্মেন্টস এবং কোনাবাড়ী এলাকার এবিএম ফ্যাশনস লিমিটেডে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আরও চারটি মামলা রয়েছে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জিয়াউল হক, মোহাম্মদ আহমারুজ্জামান, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী শফিকুল ইসলামসহ গাজীপুর মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Source link

Related posts

চারঘাটে ৬৬৭ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

News Desk

আজ আমি খুব আনন্দিত, কক্সবাজার যুক্ত হলো রেলের সঙ্গে: প্রধানমন্ত্রী

News Desk

বান্দরবানের পাহাড়ে ৩০ হাজার বসতি, ধসের শঙ্কা

News Desk

Leave a Comment