এবার থানায় ঢুকলো রাসেলস ভাইপার
বাংলাদেশ

এবার থানায় ঢুকলো রাসেলস ভাইপার

এবার একটি থানার ভেতরে ঢুকে পড়েছে রাসেলস ভাইপার সাপ। সোমবার (১ জুলাই) রাতে রাজশাহীর চারঘাট মডেল থানায় সাপটি ঢুকে পড়ে। পরে সেটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন থানার পুলিশ সদস্যরা।

মঙ্গলবার (০২ জুলাই) বিকালে চারঘাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সোমবার রাতে থানার ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি সাপ ফোঁস করে ফণা তোলে। পরে থানার অফিসার-ফোর্সদের সহযোগিতায় পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। এরপর চিকিৎসক ও সাপ বিশেষজ্ঞদের ছবি পাঠিয়ে আমরা নিশ্চিত হলাম, এটি বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ।’

সাপটি কীভাবে থানার ভেতরে ঢুকেছে জানতে চাইলে আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের থানাটি পদ্মা নদীর কাছাকাছি স্থানে হওয়ায় হয়তো যেকোনও ভাবে এটি থানায় এসে ঢুকে পড়েছিল। এ ছাড়া থানার আশপাশে বনজঙ্গলও আছে। সাপের উৎপাত যেন না হয়, সেজন্য গত কয়েকদিন ধরে থানা চত্বরে কীটনাশক প্রয়োগ করে আগাছা পরিষ্কার করা হয়েছে। তারপরও সাপটি কীভাবে যে থানায় ঢুকলো, তা বুঝতেছি না। বিষয়টি নিয়ে থানার পুলিশ অফিসার ও ফোর্সদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’ 

এর আগে ২৩ জুন চারঘাটের সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে রাসেলস ভাইপার সাপের ১৬টি বাচ্চা দেখা যায়। এর মধ্যে কিছু সেদিন পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। বাকিগুলো পালিয়ে বনের ভেতরে চলে যায়। বর্তমানে পুলিশ একাডেমি, সারদা কুঠিপাড়া ও পিরোজপুর এলাকায় সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সব মিলিয়ে জেলার চারদিকে রাসেলস ভাইপার সাপের আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু সাপে কাটা রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনম অপ্রতুল। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০০টি অ্যান্টিভেনম কিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করেছেন গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলী মাজরুই রহমানের কাছে অ্যান্টিভেনমগুলো তুলে দেন চেয়ারম্যান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অ্যান্টিভেনম হস্তান্তরের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম অপ্রতুল হওয়ায় এগুলো সরবরাহ করেছি। যাতে সাপে কাটলে যে কেউ দ্রুত অ্যান্টিভেনম নিতে পারেন। কৃষকদের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে কিছু গামবুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলার মানুষজনকে অনুরোধ করছি, সাপে কাটলে কবিরাজ বা ওঝার কাছে না গিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে আসুন।’

উপজেলা চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. মো. আলী মাজরুই রহমান বলেন, ‘কাউকে সাপে কাটলে তাকে যেন দ্রুত এখানে আনা হয়। অ্যান্টিভেনমের সঙ্গে কিছু ওষুধ লাগবে। সেগুলো আমরা রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিনা পয়সায় দিয়ে দেবো।’

সাপ না মেরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সব প্রাণীই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বিচারে সাপ নিধন পরিবেশের জন্য ভালো হবে না। এজন্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আছে। তাই সাপ না মেরে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।’

Source link

Related posts

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ফরিদপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ক্লিনিক

News Desk

লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৬০ বাংলাদেশী দেশে ফিরলেন

News Desk

নারায়ণগঞ্জে পত্রিকা অফিসে হামলা, ৮ আসামি রিমান্ডে

News Desk

Leave a Comment