free hit counter
বাংলাদেশ

এক মোকামেই প্রতিদিন ৫০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি

জমে উঠেছে লিচুর রাজ্য খ্যাত নাটোরের গুরুদাসপুরের নাজিরপুরের কানু মোল্লার হাট। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাটটি লিচু চাষি, বাগানি, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে সরগরম রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন হাটে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত প্রতিদিন ওই হাটে লিচুর বেচাকেনা চলবে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ মনে করছে এবার ২৪ কোটি টাকার বেশি লিচু বিক্রি হবে। 

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনার রশিদ বলেন, চলতি মৌসুমে মোট ৪১০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। মোট লিচুর বাগানের সংখ্যা ২০৫টি। চলতি মৌসুমে তিন হাজার মেট্রিক টন লিচুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ২৪ কোটি টাকা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ৮ মে রবিবার থেকে নাজিরপুর ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর এলাকায় দেশের অন্যতম লিচুর হাট খ্যাত কানু মোল্লার বটতলার লিচু মোকামে লিচু বিক্রি শুরু হয়েছে।


সরেজমিন কানু মোল্লার লিচু মোকামে দেখা যায়, লিচুর জমজমাট বেচাকেনা চলছে। স্থানীয় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা সেখানে ভিড় জমিয়েছেন। ভ্যান-রিকশায় করে ঝুড়িতে ভরে লিচু নিয়ে আসছেন স্থানীয় কৃষক ও বাগানিরা।

আড়ত কমিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, লিচুর এ হাটকে ঘিরে ১৭টি আড়ত রয়েছে। চলতি মৌসুমে ওই মোকামের ডাক হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। গত রবিবার থেকে লিচু বিক্রি শুরু হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রতিদিন এখানে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার লিচুর বেচাকেনা চলছে। 

নাজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, গত প্রায় ১৫ বছর থেকে ওই মোকামে চলছে লিচুর বেচাকেনা। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলা হাটে লিচু বেপারী, কৃষক ও বাগানিদের সার্বিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।  

 সরেজমিনে দেখা যায়, লিচু মোকামের মক্কা-মদিনা আড়ত, মোহনা ফল ভান্ডারসহ বিভিন্ন আড়তের সামনে লিচুর দাম হাঁকছেন লিচু চাষি ও আড়তদাররা। প্রতিটি আড়তের ভেতর চলছে প্যাকেজিংয়ের কাজ। অপরদিকে ট্রাকে লিচু লোড দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।

আড়তদাররা জানান, গত ৮ মে থেকে শুরু হয়ে ৩০ মে পর্যন্ত চলা ওই বেচাকেনায় প্রতিটি আড়তে গড়ে ৫০-৬০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। 

স্থানীয় বিয়াঘাট এলাকার লিচু চাষি আক্কাস আলী সরদার বলেন, আমার ৮ বিঘা জমিতে ২০০টি লিচুর গাছ রয়েছে। ইতোমধ্যে গাছ থেকে লিচু বিক্রি শুরু করেছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবারের লিচুর আটি একটু বড়, শাঁস কম আর সাইজে একটু ছোট হয়েছে। এ কারণে দাম কম পাচ্ছি। বর্তমানে এক হাজার লিচু আকার ও মানভেদে ৯০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

 লিচুর বেপারী আহসান হাবিব বলেন, আমার নিজের সাতটি বাগান কেনা রয়েছে। এই সাতটি বাগান থেকে লিচু আহরণ, প্যাকেজিং ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে ২০০ শ্রমিক। বাগানের লিচু বিক্রি করে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি। 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বাগানের লিচু ঢাকা, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

আরেক লিচু ব্যবসায়ী রফিক জানান, উপজেলার নারায়ণপুর চিকুর মোড় এলাকা থেকে লিচু কেনেন তিনি। তার নিজের বাগানও রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ পিস লিচু তিনি নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনীসহ বিভিন্ন জায়গায় ট্রাকে করে পাঠান তিনি। লিচু বেচাকেনায় এবার ভালো লাভ হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

 

Source link