একজনের কার্ডে টিসিবি পণ্য কিনছেন অন্যজন, করছেন বিক্রি
বাংলাদেশ

একজনের কার্ডে টিসিবি পণ্য কিনছেন অন্যজন, করছেন বিক্রি

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন কিছু সুবিধাভোগী। একজনের কার্ড দিয়ে অন্যজন পণ্য কেনারও অভিযোগ উঠেছে। এতে কার্ডপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের টিসিবি পণ্যের প্রাপ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার (৮ নভেম্বর) উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে গিয়ে এমন তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।

বুধবার ইউনিয়নের তবকপুর রেলগেট এলাকায় দেখা গেছে, এদিন সেখানে ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীদের কাছে টিসিবি পণ্য বিক্রি করছেন টিসিবি ডিলার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রাজু। সুবিধাভোগীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল, ডাল ও তেল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক সুবিধাভোগীদের পরিবার পরিচিতি কার্ড দেওয়া হলেও তাতে ছবি না থাকায় একজনের কার্ড দিয়ে অন্যজন পণ্য কিনেছেন। এসব কার্ডধারীর অনেককে ডিলার পয়েন্টের কাছেই পাইকারদের কাছে চাল বিক্রি করে দিতে দেখা গেছে।

কার্ডধারীদের কাছে চাল কিনে নেওয়া পাইকার বাদশা ও তার প্রতিনিধি জানান, সুবিধাভোগীরা টিসিবি ডিলারের কাছে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা মূল্যে কিনে তাদের কাছে ৩৬ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। তারা এসব চাল কিনে বাজার মূল্যে বিক্রি করবেন। তবে অনেক সুবিধাভোগী চাল বিক্রি করলেও তেল ও ডাল বিক্রি করেন না।

চাল বিক্রিকারী কয়েকজন সুবিধাভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টিসিবির চাল তারা খেতে অভ্যস্ত নন। তাই তারা বেশি দামে চাল বিক্রি করে দেন। অনেকে আবার সুবিধাভোগীদের কাছে কার্ড কিনে নিয়ে পণ্য উত্তোলন করে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করেন। বিক্রিকারীদের মধ্যে এই সংখ্যাই বেশি বলে দাবি করেন তারা।

ডিলার পয়েন্টের বাইরে দেখা গেছে, একজন ব্যক্তির হাতে কমপক্ষে ১০-১২টি কার্ড। এসব কার্ডের বেশির ভাগ নারীদের নামে। ওই ব্যক্তি একসঙ্গে অনেকের কার্ড নিয়ে পণ্য কিনে তা কয়েকজনের কাছে বিতরণ করছেন। রোমানা বেগম, আপেল বেগমসহ বেশ কয়েকজন নারীর নামে কার্ড থাকলেও পণ্য নিচ্ছেন পুরুষ ও তরুণরা। বিতরণকারী ওই ব্যক্তি নিজের নাম জাকারিয়া দাবি করলেও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যের নামে পণ্য উত্তোলন ও বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে ডিলার গোলাম কিবরিয়া রাজু বলেন, ‘প্রায় ৪০ শতাংশ সুবিধাভোগী টিসিবি থেকে কিনে নেওয়া চাল বিক্রি করেন। এসব কার্ডধারীর বেশির ভাগই সামর্থ্যবান। সম্ভবত তাদের বাড়িতে চাল থাকায় তারা টিসিবির চাল কিনে বেশি দামে বিক্রি করে দেন।’

জানার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া প্রশ্নে রাজু বলেন, ‘এসব সুবিধাভোগীর তালিকা ও পরিবার পরিচিতি কার্ড বিতরণ করেছে ইউনিয়ন পরিষদ। তাদের প্রাপ্যতা নির্ধারণ করেছেন চেয়ারম্যান-মেম্বাররা। আমরা শুধু কার্ড দেখে পণ্য বিক্রি করি। তবে আমার পয়েন্টের কাছে কোনও কার্ডধারী কিংবা পাইকারকে চাল বিক্রি করতে দেখলে আমি তাতে বাধা দিই।’

তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান অসুস্থ থাকায় তার সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

টিসিবি পণ্য নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়ন থেকে। ওই গ্রামের কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, একজনের কার্ড অন্যজন নিয়ে পণ্য কিনছেন। এসব পণ্য বেশি দামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত সুবিধাভোগী টিসিবির সুবিধা পাচ্ছেন না। আবার ডিলাররা এক ওয়ার্ডের পণ্য অন্য ওয়ার্ডে বিক্রি করায় সুবিধাভোগীদের বাড়তি টাকা খরচ করে রিকশা ভাড়া করে পণ্য কিনে আনতে হচ্ছে। অনেকের সেই সাধ্যও নেই।

এই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সুবিধাভোগী মারুফ বলেন, ‘আগে আমার ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীদের জন্য ওয়ার্ডের ঠাকুরবাড়ী বাজারে টিসিবি পণ্য বিক্রি হতো। কিন্তু অজানা কারণে এখন তা রিকশা ভাড়া করে ৫নং ওয়ার্ডের সোবহান বাজারে গিয়ে আনতে হয়। একজনের কার্ডে অন্যজন পণ্য কিনে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এসব দেখার যেন কেউ নেই।’

সার্বিক বিষয় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ডিলারদের সতর্ক করেছি। তাদের আরও শক্তভাবে মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Source link

Related posts

ফাগুনের আগেই খুলনায় গাছে গাছে আম্র মুকুল

News Desk

৭ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি মুন্সীগঞ্জের আগুন, আহত ৭

News Desk

পহেলা বৈশাখ: বাঙ্গালির সংস্কৃতিটি কিভাবে এল ও এর উদ্‌যাপন

News Desk

Leave a Comment